খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ কার্যকর হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে আইনের ১৮(ক) ধারার প্রয়োগের ফলে অতীতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসার সুযোগ পেতে পারেন বলে মত দিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬: আবারও ঝুঁকিতে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মন্তব্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে মূল সমস্যা আইন প্রণয়ন নয়, বরং এর বাস্তবায়নের ঘাটতি। তার মতে, নতুন আইনটি অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ‘বেইল আউট’ সুবিধা তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনগত দায়িত্বও। শুধু আমানত বিমার সীমা অনুযায়ী দুই লাখ টাকা পরিশোধ করে দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
তৌফিক আহমদ চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, দেশে ব্যাংক খাতের জন্য কার্যকর এক্সিট পলিসি এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে দুর্বল বা লোকসানি ব্যাংক বন্ধ করার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় টিকিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যার আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ে। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ পৃথক করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, কারণ বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ শৃঙ্খলা নষ্ট করছে।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের (সোয়াস) অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে কোনো ব্যাংক বন্ধ করা হলে তা আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে একটি ব্যাংকের সংকট অন্য ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে ‘ব্যাংক রান’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন সওকত হোসেন বলেন, বিভিন্ন দেশে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে একীভূতকরণ, বন্ধ করা বা পুনর্গঠনের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করে সমাধান করা কঠিন, বিশেষ করে যখন ঋণ পাচার ও অনিয়ম বিদ্যমান থাকে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে অনেক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হতো।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর। আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, রাজনীতিবিদ সারোয়ার তুষার, সিএফএ সোসাইটির সভাপতি আসিফ খান, ব্যবসায়ী শামস মাহমুদসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সামগ্রিকভাবে মত দেন যে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; বরং এর কঠোর ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।