জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
বাংলাদেশ-ভারত ক্রস বর্ডার ট্রেড এবং স্থলসীমান্ত ব্যবস্থাপনার উপর এর প্রভাব নিয়ে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার শফিকের গবেষণামূলক বই ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ক্রস বর্ডার ট্রেড এন্ড ইট’স ইম্প্যাক্ট অন ল্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ মে) বিকাল ৩টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন কলা ভবনের এ আর মল্লিক লেকচার হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য, এবং নীতিনির্ধারণে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের গবেষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আলোচনায় বইটির তত্ত্বাবধায়ক, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর সীমান্ত পরিস্থিতি জটিল, এবং তা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্য যেমন বৈধ পথে পরিচালিত হয়, তেমনি অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধও বাড়ছে। বইটিতে এসব চ্যালেঞ্জ ও তার সমাধানে বিভিন্ন প্রস্তাবনা রয়েছে, যা গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সহায়ক হবে।’
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য সীমান্ত একটি কৌশলগত বিষয়। ভারতের সঙ্গে ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ স্থলসীমান্ত। এখানে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির চেয়ে অর্থনীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ক্রস বর্ডার ট্রেড এবং এর ব্যবস্থাপনা গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। এই বইটিতে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণার সমন্বয় রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।’
লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনোয়ার শফিক বলেন, ‘বিজিবিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃত সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানকার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই বইটি লেখা। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, চোরাচালান, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন সমস্যা সীমান্ত বাণিজ্যের অব্যবস্থাপনার ফল। বইটিতে এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে কোয়ালিটেটিভ গবেষণার ভিত্তিতে।’
তিনি জানান, বইটি মোট ৯টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এতে ক্রস বর্ডার ট্রেডের বর্তমান অবস্থা, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা, নীতিমালা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী জনগণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজেদা বেগম। আরও বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক নুরুল হুদা সাকিব। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/আরডি