খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বসেছেন। যদিও দলের একটি অংশ এই সমঝোতার পক্ষে আছে, অন্য একটি অংশের মধ্যে ভিন্নমত ও আপত্তিও প্রকাশ পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যে সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।
এর আগে এনসিপি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। তবে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত বোঝাপড়া হয়নি। বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা জামায়াতের কাছে অন্তত ৫০টি আসন ছাড় চেয়েছে, তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ সংখ্যাকে বেশি মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক দর-কষাকষার পর চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক দিনে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতারা পুনরায় আলোচনায় বসবেন।
তবে সমঝোতার বিষয়টি দলের ভেতর বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেছেন। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
জোট নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দিক নির্দেশনা ও সম্ভাব্য ফলাফল
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| এনসিপি দাবি | ৫০টি আসনে ছাড় চাওয়া |
| জামায়াতের প্রতিক্রিয়া | এ সংখ্যা বেশি মনে করা হচ্ছে, চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি |
| সম্ভাব্য সমঝোতা | দর-কষাকষার পর প্রাথমিক সমঝোতা ৩০ আসনে হতে পারে |
| বাকি আসন | ২৭০ আসনে এনসিপি প্রার্থী দিতে পারবে না |
| আনুষ্ঠানিক ঘোষণা | দু-এক দিনের মধ্যে আশা করা হচ্ছে |
এনসিপির শীর্ষ নেতা জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে ঘুরেছেন, গণসংযোগ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশের মতামত, বিজয় নিশ্চিত করতে হলে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট বা সমঝোতা ছাড়া বিকল্প নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল রয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলিত হয়ে ৭ ডিসেম্বর গঠিত করেছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। এই জোটটি বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তিশালী জোট হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছিল।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া বলেন, “জোট গঠনের প্রাথমিক আলোচনায় তিন দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা চেষ্টা সেই বোঝাপড়া লঙ্ঘন করেছে। আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাব।”
এভাবে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত-এনসিপি আসন সমঝোতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সমঝোতা হলে এনসিপি নির্বাচনী প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী হবে, কিন্তু দলের ভেতরে মতবৈষম্য ও জোটভাঙনের আশঙ্কাও জেগে আছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য জোট ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।