খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
জামালপুর শহরে এক নৃশংস ঘটনায় স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগে পুলিশ শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে একটার দিকে একজন আইনজীবী স্বামীকে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে শহরের দড়িপাড়া এলাকায়। নিহত স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তানিয়া, যিনি দুই সন্তানের মা। নিহত স্বামীর নাম হোসেন তাইফুর, তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত তাহমিনার ছোট ভাই তুহিন ফয়সাল জানান, দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি বলেন, “তাইফুর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাই তাহমিনা বেশির ভাগ সময় নিজের বাবার বাড়িতে থাকতেন। ঘটনা ঘটার রাতে আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে তাহমিনা স্বামীর বাড়িতে যান। এরপরই এই নির্মম ঘটনা ঘটে।”
স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে হামলার শব্দ ও ধোঁয়া দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, “পারিবারিক কলহের জের ধরে তাইফুর ধারালো অস্ত্রসহ অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করে তাহমিনার উপর আক্রমণ চালান। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ বিছানায় রেখে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তবে সময়মতো আগুন নেভানো হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র ও আগুন নেভানোর যন্ত্রাদি জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি এবং মানসিক চাপকে প্রধান কারন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে:
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ঘটনা স্থান | দড়িপাড়া, জামালপুর শহর | স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের বাড়ি |
| নিহত ব্যক্তি | তাহমিনা আক্তার তানিয়া | দুই সন্তানের মা |
| অভিযুক্ত স্বামী | হোসেন তাইফুর | সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী |
| ঘটনার সময় | ৬ মার্চ ২০২৬, রাত ১টা | রাতের অন্ধকারে |
| ঘটনার ধরন | পারিবারিক হত্যা ও পুড়ানোর চেষ্টা | ধারালো অস্ত্র ও আগুন ব্যবহার |
| পুলিশি পদক্ষেপ | আটক ও মরদেহ উদ্ধার | ফায়ার সার্ভিস সহায়তায় |
| প্রাথমিক কারণ | পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি | দীর্ঘদিনের ঝগড়া ও মানসিক চাপ |
স্থানীয়রা বলেন, এমন ভয়াবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ এবং মাদকাসক্তি একত্রিত হলে প্রায়শই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই ঘটনায় নৃশংসতার মাত্রা ও পারিবারিক সহিংসতার সমস্যা পুনরায় সামাজিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।