খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকায় আজ জামায়াতে ইসলামী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করে, যেখানে দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। বৈঠকের পর জামায়াতের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি দলটি পর্যালোচনা করবে। ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করা হবে, তবে যে বিষয়গুলো দলের নীতি বা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো বাদ দেওয়া হবে।
সকাল নয়টার দিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বাসভবনে পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাসেম।
বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল চুক্তির পর্যালোচনা, সংসদে বিরোধীদলীয় অংশগ্রহণ এবং বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল সংসদে গতিশীল ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে। পল কাপুরের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তাহের বলেন, “জামায়াত চুক্তির ইতিবাচক বিষয়গুলো মেনে নেবে এবং যেসব দিক আমাদের নীতির সঙ্গে যায় না, সেগুলো বাদ দেবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করেছি। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বিনিয়োগের জন্য সহায়ক।”
নিচের টেবিলে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| আলোচ্য বিষয় | জামায়াতের অবস্থান | যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ |
|---|---|---|
| অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি | ইতিবাচক দিক গ্রহণ, বাকিসমূহ বাদ | পর্যালোচনা ও সহযোগিতা |
| সংসদে অংশগ্রহণ | গতিশীল ভূমিকা, জনগণকেন্দ্রিক | বিরোধীদলের অংশগ্রহণ |
| বিনিয়োগ ও বাণিজ্য | বিনিয়োগকে উৎসাহিত | নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ |
| ডেপুটি স্পিকার বিষয় | ইতিবাচক সমর্থন | সম্ভাব্য সমন্বয় |
বৈঠকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সংসদে কার্যকর অংশগ্রহণ বিষয়ক দিকগুলোও গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে। জামায়াত জানিয়েছে, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সমর্থন দেওয়া হবে এবং দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করা হবে।
এই সাক্ষাৎকে দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে জামায়াত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও শর্তগুলো তুলে ধরেছে।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যায় যে, জামায়াতের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দলটির সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।