খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট ও বিএনপি নেতা মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) বিষয়ে জাল সনদ দেখিয়ে প্রথমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরে প্রভাব খাটিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট পদে বসেন। বর্তমানে তিনি বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
কারিগরি অধিদপ্তরের এমপিও শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাউল করিমের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) বিষয়ে জমাদানকৃত সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। এজন্য জুন মাসে তার বেতন ‘স্টপ পেমেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে। ওই শাখার এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণের পর রেজাউল করিমকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু হয়তো তিনি যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। তাই তার বেতন স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।’
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিকে পাঠানো একটি চিঠিতে রেজাউল করিমের জাল সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) সনদটি ব্যবহার করে সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য কারিগরি চেয়ারম্যানের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজাউল করিমের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) সনদ ইস্যু করা হয়নি।’ এই প্রমাণের ভিত্তিতে তার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রেজাউল করিম জাল সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) এর অনুচ্ছেদ ২৯.১.৫ লঙ্ঘন করেছেন। চিঠিতে তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ ব্যাখ্যা (সুস্পষ্ট প্রমাণকসহ) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি একটি প্রোগ্রামে আছি। পরে কথা বলব।’ এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে বেতন স্থগিত ও জাল সনদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌ. মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। দুই-একদিন পর জানাতে পারব।’
খবরওয়ালা/শরিফ