খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় এক ৬ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল বাসারকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ। পবিত্র ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে এমন ন্যক্কারজনক অপরাধের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল বাসার ওই এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি একটি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগী পরিবার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিকেলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি অভিযুক্ত আবুল বাসারের পরিচালিত একটি স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। ঘটনার দিন বিকেলে শিক্ষক হিসেবে শিশুটিকে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে নিজের নির্জন কক্ষে ডেকে নেন আবুল বাসার। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
শিশুটির আকস্মিক গোঙানি এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পেয়ে মাদ্রাসার আশপাশে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্তকে ওই কক্ষেই অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, শিক্ষক হিসেবে আবুল বাসারের ওপর তাদের অগাধ বিশ্বাস ছিল, কিন্তু সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করে তিনি যে জঘন্যতম অপরাধ করেছেন তার বিচার করার ভাষা তাদের নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আবুল বাসারকে যখন স্থানীয় জনতা আটকে রাখেন, তখন তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে অভিযুক্তকে তার অপরাধের কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, “শয়তানের ধোঁকায় পড়ে” তিনি এমন নিকৃষ্ট কাজ করেছেন।
এদিকে, তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আবুল বাসার দীর্ঘকাল ধরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার জামায়াতের সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, “আবুল বাসার দলের কোনো পদে নেই, তবে তিনি আমাদের সমর্থক হতে পারেন। দল কখনোই এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তিনি যদি প্রকৃত অপরাধী হন, তবে আমরাও তার সর্বোচ্চ বিচার প্রত্যাশা করি।”
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযুক্তের নাম ও বয়স | আবুল বাসার (৬০ বছর)। |
| পেশাগত পরিচয় | মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক। |
| ঘটনার স্থান | জাজিরা উপজেলা, শরীয়তপুর। |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | মাদ্রাসার ছাত্রী (৬ বছর)। |
| অপরাধের অভিযোগ | শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপিড়ন। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | জাজিরা থানা পুলিশ হেফাজতে। |
| অভিযুক্তের জবানবন্দি | ‘শয়তানের ধোঁকায়’ অপরাধ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি। |
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই জাজিরা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আবুল বাসারকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। উত্তেজিত গ্রামবাসী অপরাধীর শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করে এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানায়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে জড়িত সকল আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, “সমাজ থেকে এ ধরণের অপরাধ নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একজন ধর্মীয় শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ সমাজ ও ধর্মের জন্য চরম লজ্জাজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। জাজিরা এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনে করেন, ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে যারা এমন পাপাচার লিপ্ত হয়, তাদের বিচার সাধারণ অপরাধীদের চেয়েও কঠোর হওয়া উচিত। শিশুরা যাতে সুরক্ষিত থাকে এবং পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কলঙ্কমুক্ত থাকে, সেজন্য মাদ্রাসাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুটির পরিবার বর্তমানে আইনি ও মানসিক সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। দোষী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তিই সমাজকে এই ধরণের পৈশাচিকতা থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে সচেতন মহলের অভিমত।