খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
রাজধানীর আদাবর এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রুপটির সাবেক প্রধান আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে অন্তরীণ থাকলেও, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু সাঈদের নেতৃত্বে চক্রটি নিয়মিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবর ৭ নম্বর সড়কে এই ছিনতাই ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত বিকাশ ব্যবসায়ীর নাম শফিকুল ইসলাম। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি উক্ত হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের স্বজন মো. মুসলিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সকালে শফিকুল তাঁর বাসা থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা সঙ্গে নিয়ে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে (দোকানে) আসেন। দোকান খুলে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪ থেকে ৫ জন যুবক হাতে ধারালো চাপাতি নিয়ে আচমকা দোকানে প্রবেশ করে। শফিকুল ইসলাম কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাঁর ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। এরপর তারা শফিকুলের কাছে থাকা নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং বিকাশ লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সোমবার রাতেও আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠ এলাকার কয়েকটি গ্যারেজে লুটপাট চালানো হয়েছিল। এর পরদিনই মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদাবর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপটি এলাকায় নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। পূর্বে এই গ্রুপটির মূল নেতৃত্বে ছিল আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার। সে বর্তমানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে কারাগারে থাকায় তার বাল্যবন্ধু আবু সাঈদ এখন গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। আবু সাঈদও দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। বর্তমানে এই অপরাধী চক্রটিতে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের অপরাধ প্রবণতার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| তথ্য খাত | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও নামসমূহ |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৬ জুন, মঙ্গলবার; সকাল ১০:৩০ মিনিট। |
| ভুক্তভোগী ও স্থান | শফিকুল ইসলাম (বিকাশ ব্যবসায়ী); সড়ক নম্বর ৭, আদাবর, ঢাকা। |
| লুণ্ঠিত মালামাল | নগদ ৩,০০,০০০ টাকা এবং বিকাশ লেনদেনের ১টি মোবাইল ফোন। |
| গ্রুপের বর্তমান নেতা | আবু সাঈদ (কারাগারে থাকা আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ারের বাল্যবন্ধু)। |
| সক্রিয় সদস্যবৃন্দ | দেলোয়ার (আনোয়ারের ভাই), চোরা রুবেল, টানা আমীর, শাহিন, পিকআপ রুবেল, মাওরা সোহেল, রানা, আরিফ, লিটন, আপন (পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত), মেহেদী এবং সুজন। |
| অপরাধের আওতাভুক্ত এলাকা | আদাবর ১০ ও ১৭ নম্বর এলাকা, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর এবং চন্দ্রিমা হাউজিং। |
| অপরাধের ধরণ | ছিনতাই, চাঁদাবাজি, গ্যারেজে লুটপাট এবং দখলবাণিজ্য। |
দীর্ঘদিন ধরে আদাবর ও এর আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ছিনতাই ও গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে সংঘটিত ছিনতাই ও হামলার বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে। এই অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতরের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.