খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের আলোচিত পোশাক ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে নিহতের আপন মা মিনারা বেগম (৫৩) সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই অপরাধের অভিযোগে মিনারা বেগমকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ এবং স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত আবদুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন। গত ২৪ মে মাদকের অর্থ জোগাড় করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের অভ্যন্তরে একটি বিবাদের সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিন আবদুল কাইয়ুম তাঁর মায়ের কাছে মাদকের টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে মা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও তর্কের সৃষ্টি হয়।
কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মা মিনারা বেগম ঘরে থাকা একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে নিজের ছেলেকে সজোরে আঘাত করেন। কুড়ালের সেই গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আবদুল কাইয়ুমের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত মানিব্যাগ তল্লাশি করে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের মাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও মোটিভ উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ২৪ মে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মিনারা বেগম আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঠবাড়িয়ার এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মূল তথ্যাদি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | বিষয়ের বিবরণ | তদন্ত সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য |
| ১ | হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ২৪ মে |
| ২ | ঘটনাস্থল | টিকিকাটা ইউনিয়ন, মঠবাড়িয়া উপজেলা, পিরোজপুর। |
| ৩ | নিহত ব্যক্তি | আবদুল কাইয়ুম (পেশায় পোশাক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্ত)। |
| ৪ | অভিযুক্ত ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | মিনারা বেগম (৫৩) [নিহতের আপন মা]। |
| ৫ | হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র | ঘরে থাকা কুড়াল। |
| ৬ | উদ্ধারকৃত আলামত | কুড়াল এবং নিহতের মানিব্যাগ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম। |
| ৭ | আইনি জবানবন্দি | ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। |
| ৮ | বর্তমান আইনি অবস্থা | আদালতের নির্দেশে আসামি মিনারা বেগম বর্তমানে কারাগারে আছেন। |
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ মামলার নথিপত্র এবং উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ আদালতে উপস্থাপন করেছে। মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ বর্তমানে মামলাটির চূড়ান্ত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করার জন্য আনুষঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।