খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্থানীয় ও বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিগত সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক দুটি সময়ে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর এবং আরিছপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে এই মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আদিত্যপুর এবং আরিছপুর ও আব্দাফৌজদা—এই দুই গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত একটি কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই সীমানা ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রথম দফা সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এতে একদিকে আরিছপুর, আব্দাফৌজদা ও কাসেরগাঁও গ্রামের মোশাহিদ মেম্বার পক্ষ এবং অন্যদিকে আদিত্যপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষ পরস্পরের মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র, টেটা, রামদা, লাঠিসোটা এবং ইট-পাটকেল নিয়ে লিপ্ত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে একই দিন রাত ৮টার দিকে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে।
পুলিশের প্রাথমিক উদ্যোগের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডুবাঐ বাজার এলাকায় উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই দফায় দুই পক্ষের মধ্যেই মারাত্মক ধারালো অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে সংঘর্ষটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
সংঘর্ষ চলাকালীন আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে (৩৭) উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে স্থানান্তর করা হলে রাত ১১টার দিকে পথিমধ্যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সংঘর্ষের ঘটনাপ্রবাহ এবং হতাহতদের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | বিবরণ ও তথ্য খাত | সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও নাম |
| ১ | হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের তারিখ | ১৫ জুন (সোমবার) |
| ২ | প্রথম দফা সংঘর্ষের সময় | দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিট |
| ৩ | দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সময় | সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ মিনিট |
| ৪ | সংঘর্ষের উৎপত্তিস্থল ও ভেন্যু | সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর, আরিছপুর, আব্দাফৌজদা এবং ডুবাঐ বাজার এলাকা |
| ৫ | নিহত ব্যক্তিদের তালিকা |
১. সেলু মিয়া (৫৩), পিতা: মৃত ফিরোজ মিয়া ২. হেলাল মিয়া (৩৭) [উভয়ই আদিত্যপুর গ্রামের বাসিন্দা] |
| ৬ | আহতের মোট সংখ্যা | অন্তত ৪০ জন |
| ৭ | গুরুতর আহতদের নাম | কদর আলী, লুৎফুর রহমান, আতাউর রহমান, কুহিনুর, জাহিদ মিয়া, রিমন, অলফুজ মিয়া, খলিল মিয়া, সুহেল মিয়া, হাবিব মিয়া, সিমন ও হান্নানসহ অন্যান্যরা। |
| ৮ | উন্নত চিকিৎসার স্থান | সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
সংঘর্ষের ঘটনার পর নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই সহিংসতার জের ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলা বা ঘরবাড়ি লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুনরায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উক্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে।
মন্তব্য