খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক বিমা মডেলগুলো ক্রমেই চাপে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিমা কাঠামোকে টেকসই রাখতে হলে শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদানের বাইরে গিয়ে ঝুঁকি হ্রাস ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘দ্য জেনেভা অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যা, দাবানল, সাইবার হামলা এবং মহামারির মতো দুর্যোগগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন এবং মারাত্মক হয়ে উঠছে। এর ফলে বিমা খাতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষতি বিমার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
প্রতিবেদনটিতে বিশ্বব্যাপী ১৪টি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক বিমা কর্মসূচি (পাবলিক-প্রাইভেট ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা পিপিআইপি) পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব কর্মসূচি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বিমা কভারেজ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে।
বিশেষ করে তিনটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে: উচ্চ আর্থিক দায়, বেসরকারি বিমা কোম্পানির অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি (crowding out), এবং গ্রাহকদের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সীমিত প্রণোদনা। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বিমা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই থাকছে না।
নিচে প্রতিবেদনে চিহ্নিত প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হলো:
| চ্যালেঞ্জের ধরন | বর্ণনা |
|---|---|
| উচ্চ আর্থিক দায় | বড় দুর্যোগে সরকার ও বিমা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ |
| বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া | সরকারি সহায়তা বেশি হলে বেসরকারি বিমা কোম্পানির আগ্রহ কমে যায় |
| ঝুঁকি হ্রাসে দুর্বল প্রণোদনা | গ্রাহকরা ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিতে উৎসাহ পায় না |
| বিমার আওতার বাইরে ক্ষতি বৃদ্ধি | অনেক ক্ষতি বিমার বাইরে থাকায় সামগ্রিক চাপ বৃদ্ধি পায় |
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্যকর পিপিআইপি গড়ে তুলতে চারটি মৌলিক লক্ষ্য বজায় রাখা জরুরি। এগুলো হলো—সাশ্রয়ী বিমা সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সরকারি অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা, বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করা।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাদ আরিস উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেই চলবে না; বরং আগে থেকেই ঝুঁকি হ্রাস ও সহনশীলতা (resilience) বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। এতে সমাজ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবে এবং সরকারের ওপর আর্থিক চাপও কমবে।
এছাড়া সংস্থাটির জননীতি ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পরিচালক হেলেন শের্নবার্গ বলেন, পিপিআইপি নকশা করার সময় নীতিনির্ধারকদের একটি সুসংগঠিত কাঠামো অনুসরণ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে—বিমা সুরক্ষার ঘাটতি নিরূপণ, ঝুঁকি হ্রাসমূলক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সরকার কতটুকু ঝুঁকি গ্রহণ করবে তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, দ্য জেনেভা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মানুষকে বিমা সুরক্ষা প্রদান করছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈশ্বিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে হলে ঝুঁকি হ্রাসকে বিমা কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত করা অপরিহার্য। অন্যথায় ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান দুর্যোগের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।