খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
নাটোরের চলনবিল অঞ্চলের কাদায় চাষ হওয়া রসুন, যা স্থানীয়ভাবে ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত, এখন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা এই রসুনের জন্য জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি দাবি করেছেন।
চলনবিলের কৃষকরা জানান, বিনাহালে বা হাল চাষ ছাড়াই কাদার ওপর রসুন চাষ করার কারণে উৎপাদন খরচ ও শ্রম কমেছে। এর ফলে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি ভালো বাজারমূল্যের কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এতে এই অঞ্চলের রসুন এখন একটি প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ধান কাটার পর জমে থাকা কাদার ওপর সরাসরি রসুনের কোয়া পুঁতে দেওয়া হয় এবং তা ধানের খড় বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে এক সপ্তাহের মধ্যে চারা গজায়। আলাদাভাবে জমি প্রস্তুত, সেচ ও সারের প্রয়োজন কম হওয়ায় প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত এই রসুন স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু ও সহজে সংরক্ষণযোগ্য।
রাজশাহী ও বগুড়া আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের চারটি জেলায় প্রায় ২৮ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে এবং বগুড়া বিভাগের চারটি জেলায় ১১ হাজার ৪১৯ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয়েছিল। যদিও ২০২১ সালের পর থেকে রসুনের আবাদ কিছুটা কমেছিল, তবে কৃষি বিভাগ ২০২৫ সালে আবারও উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী। গত তিন মৌসুমে মোট প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদিত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মহররম আলী, আকুল মিয়া ও সুখ চন্দন জানান, চলনবিলে শত বছর ধরে রসুন চাষ হচ্ছে। তবে বর্তমানে বিনাহালে চাষ পদ্ধতি অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষক ছুলাইমান মৃধা বলেন, কাদা জমিতে ফলন ভালো হয় এবং প্রতি বিঘায় ২২-২৫ মণ রসুন পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন ব্যয় ৪৫ হাজার টাকা হলেও লাভ অনেক বেশি হয়। অনেক কৃষক রসুনের পাশাপাশি তরমুজ ও বাঙ্গির মতো সাথী ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট রসুন উৎপাদনের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশই হয় নাটোর জেলায়। এখানকার মাটি ও পরিবেশের কারণে উৎপাদিত রসুন বেশি ঝাঁজালো, সাদা, রসালো এবং সহজে সংরক্ষণ করা যায়।
প্রবীণ কৃষক আছমত আলী বলেন, তার বাবা, তিনি নিজে এবং তার সন্তানরাও এই পদ্ধতিতেই রসুন চাষ করছেন। তিনি সরকারিভাবে এই রসুনের স্বীকৃতি চান। নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, চলনবিলের রসুনকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি স্বীকৃতি পেলে রসুনের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে।
রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, চলনবিলের রসুন চাষের পরিবেশ ও পদ্ধতি অনন্য। তাই এটিকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
খবরওয়ালা/টিএসএন