খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ ১৮ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সম্রাট। তিনি মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রমনা থানায় এ মামলা করেন। মামলায় আরও অন্তত ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডেপুটি কমিশনার) মাসুদ আলম।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টের’ দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং আওয়ামী রেজিমের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত ২৯ আগস্ট নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় পার্টির অফিস সংলগ্ন নাইটিংগেল মোড়ের দিকে গেলে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা ১০০–১৫০ জন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পেছন থেকে হামলা চালায়। এতে বাদীসহ গণঅধিকার পরিষদের প্রায় ২০–৩০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে নেতাদের মারধর করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এছাড়া সমাবেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভেঙে ফেলার মাধ্যমে হামলাকারীরা নাশকতা চালান এবং জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলায় জড়িতরা জাপা ও ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মী। এর মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান, জাতীয় ছাত্র সমাজ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মশিউর রহমান জিসান, জাতীয় পার্টির কর্মী সোহাগ খান, মিজানুর রহমান, শামীম আহমেদ, মো. সোলায়মান হোসেন, জাতীয় পার্টির গৌরনদী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রাবণ শিকদার, জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য তাসনীম বিন আজিজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল আলম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. শাহাদত হোসেন, জাতীয় পার্টি মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদুল ইসলাম, যুব মহিলা লীগের নেত্রী সোহাগী রহমান মুক্তা ও জাতীয় পার্টির সক্রিয় সদস্য রতন দেওয়ান।
রমনা থানার উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়টি নজরে রেখেছি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধান চলছে।’
ঘটনাস্থল ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সমাজমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।
খবরওয়ালা/এন