খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ‘জিন চিকিৎসা’র নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহেরা বিবি ওরফে বানেছা পরী প্রায় এক দশক ধরে চিকিৎসার নামে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
জাহেরা বিবির দাবি, তার মাধ্যমে জিন রোগ নির্ণয় করে, চিকিৎসা দেয় এবং ভবিষ্যৎ বলে দেয়। তার বাবা আবুল হোসেন ও বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলাম মিলে বাড়ির আঙিনায় খুলেছেন এই তথাকথিত চিকিৎসালয়। সপ্তাহে চার দিন রোগী দেখা হয়। সিরিয়ালের জন্য নেওয়া হয় ৩০ টাকা। এরপর শুরু হয় তেল পড়া, পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক ও আঙুল দিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার মতো ভাওতাবাজি।
এখানে ক্যানসার, টিউমার, সন্তানহীনতা ও মানসিক সমস্যার মতো জটিল রোগের চিকিৎসা করানোর জন্য শত শত রোগীর ভিড় দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের বলা হয় তারা ‘শেষ পর্যায়ে’, ‘জিনের খপ্পরে’ বা ‘বাঁচবে না’। এরপর শুরু হয় অর্থ আদায়ের খেলা। অভিযোগ রয়েছে, দরকষাকষি করে নেওয়া হয় ৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত।
সংবাদ সংগ্রহে গেলে জাহেরা বিবি ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তাদের কাছে জানতে চাইলে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমাদের টাকার দরকার, পারলে ব্যবসা বন্ধ করেন।’ স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং জাহেরা বিবি দাবি করেন, প্রশাসনের লোকজন নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
কিছু রোগীও অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন। কোরবান আলী নামের একজন বলেন, ‘লোকমুখে শুনে এসেছি, দেখি কী হয়।’ আরেকজন রোগী জহুরা বেগম বলেন, তার হাত ভাঙার পর হাসপাতাল না গিয়ে তিনি এসেছেন এখানে ‘জিন দিয়ে সাড়াতে’।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রসুল ও মাহতাব আলী প্রামাণিক বলেন, ‘এটা ইসলামবিরোধী, অমানবিক এবং আইনবিরোধী। বহুবার প্রতিবাদ জানিয়েও প্রতারকচক্রকে থামানো যায়নি।’
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মাহফুজ আলম বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক। চিকিৎসা দেওয়ার অধিকার শুধু রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকদের। এই ধরনের কাজ জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক হুমকি।’
কালাই থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম এমন অভিযোগ শুনলাম। এটি ফৌজদারি অপরাধ। দ্রুত খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
খবরওয়ালা/এন