খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
দেশের বিচার বিভাগীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন ডিজিটাল কারসাজি এবং ভুয়া পরিচয় দিয়ে পরীক্ষার্থীকে সহায়তার অভিযোগে দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই ঘটনাটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা এবং নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার সকালে বনানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ কেন্দ্রে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালীন মামুনুর রশিদ (২৮) নামক এক যুবক নিজেকে ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাপটের সাথে হলের ভেতর প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে পরীক্ষার্থী মো. শুভকে (২৬) উত্তর লিখতে সরাসরি সহায়তা করছিলেন। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদের পরিচয় ভুয়া প্রমাণিত হয় এবং জানা যায় যে তিনি প্রকৃতপক্ষে নওগাঁ আদালতের একজন সাধারণ কর্মচারী।
আটককৃতদের তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অত্যাধুনিক সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার্থী শুভ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার হল থেকেই প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে ‘শ্যামল’ নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠান। বাইরে থেকে শ্যামল সেই প্রশ্নের সমাধান তৈরি করে শুভর কাছে পাঠাচ্ছিলেন। শুভ তার কবজিতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে সেই উত্তরগুলো শুনছিলেন এবং খাতায় লিখছিলেন। মামুনুর রশিদ এই পুরো প্রক্রিয়ায় তদারকি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন।
নিচে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং দণ্ডাদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম | মূল পরিচয় ও ভূমিকা | অপরাধের ধরণ | সাজার মেয়াদ |
| মামুনুর রশিদ | কর্মচারী, নওগাঁ আদালত (ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ধারী) | অনধিকার প্রবেশ ও জালিয়াতিতে সহায়তা | ০১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| মো. শুভ | পরীক্ষার্থী | ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ও প্রশ্ন ফাঁস | ১০ মাস সশ্রম কারাদণ্ড |
| শ্যামল | পলাতক সহযোগী | হোয়াটসঅ্যাপে উত্তর সরবরাহ | তদন্তাধীন |
পুলিশের তল্লাশিতে মামুনুর রশিদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন এবং পরীক্ষার্থী শুভর কাছ থেকে একটি বিশেষ শ্রবণ যন্ত্র (ইয়ারপিস) ও কবজিতে বাঁধা ইলেকট্রনিক সার্কিট উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগ এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামুনুর রশিদকে এক বছর এবং শুভকে দশ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরণের অসদুপায় রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে এই ধরণের জালিয়াতি বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। পলাতক সহযোগী শ্যামলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।