খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভারতীয় সঙ্গীতজগতে জুবিন গার্গের অবস্থান ছিল একেবারে স্বতন্ত্র। সাধারণ গায়ক-কণ্ঠশিল্পীর ধারাবাহিকতায় তিনি কখনো না মিলিয়ে, নিজস্ব ধারায় কাজ করেছেন। নিজের মতো করে বাঁচতেন, নিজের মতো করে গান গাইতেন- ঠিক সেই কারণে তাঁকে বলা হতো ‘আসল মিউজিকের রাজা’।
জুবিন শুধুই একজন গায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন খোলামেলা ও নির্ভীক মনোভাবের মানুষের প্রতীক। মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল জীবন তাঁকে কখনো টানত না। তার হৃদয়, তার ভালোবাসা সবসময়ই ছিল আসামে। এখানেই তিনি জীবনের শান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন।
পেশাগত ক্ষেত্রেও জুবিন কখনো কম্প্রোমাইজ করতেন না। তিনি একবার নিজস্ব উদার মনোভাব প্রকাশ করে বলেছিলেন- ‘আমি যেভাবে থাকি, তাতেই ওরা ভয় পায়। ফোন করে না, কারণ ভাবে বকাঝকা করব। রোহিত শেঠি একবার ডাক দিয়েছিলেন তাঁর ছবিতে গান গাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি সরাসরি বলেছিলাম, গানটা ভালো লাগেনি, আমি যাব না। রোহিত অবাক হয়ে প্রীতমকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেমন মানুষ এ! তখন প্রীতম উত্তর দিয়েছিল, ও এমনই। রাজা। নিজের মতো করেই থাকে।”
জুবিনের এই স্বতন্ত্রতা তাঁকে দর্শক ও সহশিল্পীদের কাছে বিশেষ করে তোলে। কোনো বাহ্যিক চাপ বা জনপ্রিয়তার লোভ তাঁকে কখনো নিজের স্বাভাবিকতা বদলাতে বাধ্য করেনি। তার কণ্ঠের স্পন্দন যেমন হৃদয়ের কাছাকাছি, তেমনই তার ব্যক্তিত্বও ছিল স্পষ্ট, নির্ভীক ও খোলামেলা।
জুবিনের স্বতন্ত্র মানসিকতা ও সাহসী মনোভাব ভারতীয় সঙ্গীতজগতে তাকে স্থায়ী মর্যাদা দিয়েছে। শুধু কণ্ঠের মাধ্যমে নয়, তার জীবনধারা ও নৈতিকতা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন নিজের মতো করে বাঁচা, নিজের মতো করে কাজ করা এক রাজা। আসামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিজের নিয়মে জীবন যাপন, এই দিকগুলোই তাঁকে অন্য গায়কদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
জুবিনের জীবন ও সঙ্গীতের গল্প শুধু তার ভক্তদের নয়, পুরো ভারতীয় সঙ্গীতজগতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আমাদের শেখালেন, নিজের পথে চলা এবং নিজের নীতির প্রতি অটল থাকা সত্যিকারের শিল্পীর সঠিক পরিচয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড