খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্যারিস্টার তানিয়া আমির, প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম-এর কন্যা, তিনি আজ তার ভেরিফাই ফেসবুকে বক্তব্যে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, জুলাই সনদ রাজনৈতিক চুক্তি। এই চুক্তি রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই অনুমতি দিতে পারেন না, কারণ আইন প্রণয়ন করবেন সংসদ সদস্যগণ সংসদে; তার পরে সেটা কোর্টে যাবে এবং যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রপতি গেজেট আকারে প্রকাশ করবেন—এটাই আইনসম্মত পদ্ধতি এবং সংবিধানসম্মত স্বীকৃত প্রক্রিয়া।
কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭২ এর সংবিধান ফেলে দিতে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস-এর ঘাড়ে পা রেখে বিভিন্ন কৌশলে জুলাই সনদ বানিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদের উদ্দেশ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭২ সালের আইনের পরিবর্তে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া; কিন্তু এটাও আইনসম্মত নয় এবং এটি সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে একটি প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলাম যা বলতে চাইছেন তাও সঠিক নয় এবং বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ-এর অধীনে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে এমন সরকার গঠন করা যায়; এটি সাংবিধানিক সরকার বটে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। তবে রাজনৈতিক দলের কোনো চুক্তিকে সরাসরি সংবিধানে সংযুক্ত করা যায় না—এটি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
বিশেষ কোনো কারণ থাকলে সংসদে আলোচনা করে গণপরিষদ কমিটি গঠন করে স্পিকারের নিকট শপথ গ্রহণ করতে হবে; শপথের পর কমিটি আলোচনা করে আইন আকারে সংসদে বিল উত্থাপন করবেন, তারপর হ্যাঁ-না ভোটে তা পাস করা যায় এবং এরপরই তা কার্যকর হতে পারে।
তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী দল বাংলাদেশ নামক দেশটিকেই স্বীকার করে না; তাই তারা ৭২-এর সংবিধান ফেলে দিয়ে নিজেদের মতো একটি সংবিধান বানিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে মাঠে-ঘাটে প্রচারণা চালাচ্ছে। ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোই জামায়াত ও তাদের দোসরদের মূল উদ্দেশ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।