খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। নোয়াখালীর বসুরহাট শাখায় একজন গ্রাহকের মৃত্যুজনিত দাবির অর্থ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পেশাদারিত্ব ও সেবার মান প্রদর্শন করেছে। সাধারণত বীমা দাবি আদায়ে দীর্ঘসূত্রতার যে ধারণা প্রচলিত আছে, জেনিথ ইসলামী লাইফ তা ভেঙে দিয়ে গ্রাহকবান্ধব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করল।
মরহুমা রেশমা আক্তার নামক একজন গ্রাহক জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বসুরহাট শাখায় একটি বীমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, মাত্র ২,০০০ টাকার একটি কিস্তি পরিশোধ করার পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মনোনীত নমিনী মাসুম মিয়া প্রয়োজনীয় দলিলাদি ও মৃত্যুসনদ কোম্পানির নিকট দাখিল করেন। আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং নথিপত্র সম্পন্ন হওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যে ৯৯,৪৫০ টাকার মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে।
নিচে জেনিথ ইসলামী লাইফের এই নির্দিষ্ট দাবি নিষ্পত্তির একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| বিবরণ | তথ্যাবলি |
| বীমা গ্রহীতার নাম | মরহুমা রেশমা আক্তার |
| শাখার নাম | বসুরহাট শাখা, নোয়াখালী |
| পরিশোধিত প্রিমিয়াম | ২,০০০ টাকা (একটি কিস্তি) |
| পরিশোধিত দাবির পরিমাণ | ৯৯,৪৫০ টাকা |
| নিষ্পত্তির সময়কাল | মাত্র ১ কর্মদিবস (প্রয়োজনীয় কাগজ জমা সাপেক্ষে) |
| সুবিধাভোগী (নমিনী) | মাসুম মিয়া |
দাবি পরিশোধ উপলক্ষে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বসুরহাট শাখা কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মো. আরিফ হোসেন। তিনি মরহুমার পরিবারের সদস্যের হাতে চেকটি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বীমা শিল্পের প্রধান শক্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। অনেক ক্ষেত্রে বীমা দাবি পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় বলে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু জেনিথ ইসলামী লাইফ প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা থাকলে দ্রুততম সময়ে দাবি নিষ্পত্তি করা সম্ভব। চিফ অপারেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন যে, গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে তাঁরা ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছেন এবং প্রতিটি দাবি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল ইসলাম, বসুরহাট শাখার ইনচার্জ ও সেলস ম্যানেজার আবুল মোবারক হৃদয়সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও এই মাইলফলক অর্জনের সাক্ষী হতে স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় ২৫০ জনের বেশি সিনিয়র উন্নয়ন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স বর্তমানে শরীয়াহ ভিত্তিক বীমা সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে। দ্রুত দাবি পরিশোধ করার এই প্রবণতা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং সাধারণ মানুষকে জীবন বীমার গুরুত্ব বোঝাতে সহায়ক হবে। কোম্পানিটি আগামীতেও এই স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।