নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসকদের নিয়োগের পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সক্রিয় ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বৈঠকের আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ সরকার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসকদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও জোর দেন স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার ওপর, যাতে কেন্দ্রীয় নীতিমালার সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের কাজ শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তাঁদেরকে জনগণের আস্থা অর্জন করে স্থানীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
নিচে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| নিয়োগের তারিখ |
১৫ মার্চ |
| মোট জেলা পরিষদ |
৪২টি |
| প্রথম বৈঠকের তারিখ |
৩০ মার্চ |
| বৈঠকের স্থান |
গুলশান, চেয়ারম্যানের কার্যালয় |
| প্রধান নির্দেশনা |
স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ, জনসেবা নিশ্চিতকরণ |
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসকরা যদি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন, তবে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।