খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত এক শিশুকে ভুলবশত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবু ইউসুফকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল। ওইদিন পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিফার পরিবার তাকে জ্বরের চিকিৎসার জন্য শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। শিশুটির অবস্থা সাধারণ জ্বরজনিত হওয়ায় তারা স্বাভাবিক চিকিৎসা প্রত্যাশা করছিলেন। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু ইউসুফ অসাবধানতাবশত অন্য এক রোগীর জন্য প্রস্তুত করা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা শিশুটির শরীরে প্রয়োগ করেন। এতে পরিবার ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসতর্কতা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ এপ্রিল এক আদেশে তাকে শাহরাস্তি থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাস্তিমূলক বদলি করে।
তবে এই বদলি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সন্দ্বীপ এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্গম এলাকায় বদলি করে মূল সমস্যার সমাধান করা হয়নি, বরং ঝুঁকি অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বদলির আদেশপ্রাপ্ত চিকিৎসক এখনো সেখানে যোগদান করেননি।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৮ এপ্রিল | জ্বরের শিশুকে ভুলবশত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগ |
| ৯–১৪ এপ্রিল | তদন্ত কার্যক্রম ও হাসপাতাল পর্যায়ের পর্যালোচনা |
| ১৫ এপ্রিল | শাস্তিমূলক বদলির আদেশ জারি |
| পরবর্তী সময় | সন্দ্বীপে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া শুরু |
এদিকে বদলির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সন্দ্বীপের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সংবাদকর্মী সংগঠনের এক নেতা মন্তব্য করে বলেন, শাস্তির নামে দুর্গম এলাকায় দায়িত্বহীন চিকিৎসককে পাঠানো হলে সেই এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু বদলি নয়, প্রয়োজন হলে কঠোর প্রশাসনিক ও পেশাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সতর্কতা, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে শাস্তিমূলক বদলি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দায়িত্বশীলতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রমের তদারকি জোরদারের দাবি উঠেছে।