খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গবেষণা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ এক সহযোগিতার পথ খুলল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও পেট্রোবাংলা। আজ বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার সভাকক্ষে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও গবেষণার ঘাটতি থেকে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছিল, এই সমঝোতা স্মারক সেই ঘাটতি পূরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। পেট্রোবাংলার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সচিব মো. আমজাদ হোসেন এবং বুয়েটের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রাইজ (RISE)–এর পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
পেট্রোবাংলার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার আদান–প্রদান আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে প্রকৌশল গবেষণায় বুয়েট যেসব আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে, সেগুলোর সুবিধা এখন পেট্রোবাংলার গবেষকদের জন্যও উন্মুক্ত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। খনন স্থান, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, প্রক্রিয়াকেন্দ্র ও কয়লা খনি পরিদর্শনের সুযোগ মিলবে বুয়েটের গবেষকদের। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার জনবল বুয়েটের গবেষণাগার, বিশেষায়িত সফটওয়্যার ও আধুনিক সিমুলেশন সুবিধা ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারবে। এতে একদিকে গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ লাভ করবে, অন্যদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতা যোগ হবে একাডেমিক পাঠ্যসূচিতে।
বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্প সহযোগিতা আজকের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে—যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড যুক্ত হচ্ছে—সেখানে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন অসম্ভব। পেট্রোবাংলা–বুয়েট চুক্তি সেই ঘাটতি পূরণে একটি কাঠামোবদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দেবে।
চুক্তি অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া অন্যান্য তথ্য গবেষণার স্বার্থে বুয়েট ব্যবহার করতে পারবে। এর মাধ্যমে গবেষকদের হাতে আরও বাস্তবসম্মত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি জ্বালানি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, নীতি-পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার সর্বোচ্চ আসন বুয়েট বরাবরই বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা করছে। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, গবেষণা ও পেশাগত উৎকর্ষতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।