খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবারও জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু পাম্পে বিক্রি বন্ধ থাকায়, চালকরা তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
যেসব স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ, সেগুলোতেও ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে বলছেন, গাড়ি চালিয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার সুযোগ নেই। তেলের পরিমাণ একেবারে শেষ বা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায়, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।
যেসব পাম্পে তেল বিক্রি চলছে, সেখানে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চালক এক থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয়সরণি ও কালশী এলাকায় ৯টি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়—
| এলাকা | স্টেশন সংখ্যা | বিক্রি বন্ধ | বিক্রির ধরন |
|---|---|---|---|
| মিরপুর | 3 | 1 | শুধুমাত্র ডিজেল বা অকটেন |
| কল্যাণপুর | 2 | 1 | শুধুমাত্র সিএনজি বিক্রি |
| মোহাম্মদপুর | 2 | 0 | ডিজেল ও অকটেন উভয় বিক্রি |
| বিজয়সরণি | 1 | 0 | ডিজেল ও অকটেন বিক্রি |
| কালশী | 1 | 0 | ডিজেল ও অকটেন বিক্রি |
মিরপুর-২ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে সকাল ৯টার দিকে দেখা যায়, প্রাইভেট কারের সারি প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্ব থেকে শুরু হয়েছে। পাম্পে বিক্রি বন্ধ। ক্যাশিয়ার আরাফাত স্বপ্নীল জানিয়েছেন, রোববার বিকেল চারটার দিকে এক গাড়িতে ৪,৫০০ লিটার অকটেন পৌঁছেছিল। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। ডিপো থেকে নতুন তেল না এলে বিক্রি শুরু হবে না।
মোটরসাইকেল চালক সেলিম মিয়া জানান, সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, “দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, তেল বিক্রি হচ্ছে না। অন্য পাম্পে যাওয়ার উপায় নেই। বাইক ঠেলতে হবে, রোজা রেখেও তা সম্ভব নয়।”
কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনে শুধু সিএনজি বিক্রি হচ্ছিল, তেল বিক্রির অংশ বন্ধ। পাশের কমফোর্ট ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে একই অবস্থা—‘তেল নাই’ স্ট্যান্ড রাখা আছে।
বিজয়সরণি ট্রাস্ট পাম্পে সবচেয়ে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রাইভেট কারের সারি ১.২৫ কিলোমিটার বিস্তৃত, মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছেছে। কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনেও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
চালকরা জানিয়েছেন, তেলের ক্রমাগত অভাবে দৈনন্দিন কাজ ও যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য নতুন সরবরাহ ও পাম্পগুলোর সঠিক পরিচালনা জরুরি।