গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজ বাসা থেকে এক কিশোরের এবং পাশের রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার উত্তর বনমালা এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা দর্জির ছেলে সোহেল রানা (৪৮) এবং তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। সাকিব ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি আংশিক সময়ের একটি কাজও করত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই সোহেল রানার আরেক ছেলে সাইফুর রহমান (২৭)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই ঘরে ঘুমানোর পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য তৈরি হয়েছে।
নিহতদের পরিচিতি ও তথ্য
| নাম |
বয়স |
পরিচয় |
অবস্থান |
| সোহেল রানা |
৪৮ |
পিতা, প্রবাস ফেরত কর্মজীবী |
রেললাইনের পাশে মৃত অবস্থায় |
| সাকিবুর রহমান শোয়েব |
১৭ |
ছেলে, কলেজ শিক্ষার্থী |
নিজ ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় |
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কাজ করেছেন। প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পারিবারিকভাবে তারা এলাকায় পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে সোহেল রানা তার দুই ছেলেকে নিয়ে একই ঘরে ছিলেন। ভোররাতে হঠাৎ চিৎকার ও শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর ঘরের ভেতর সাকিবুর রহমানের মরদেহ এবং কিছু দূরে রেললাইনের পাশে তার বাবার মরদেহ পাওয়া যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাকিবুরের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মাথা ও হাত-পায়ে গুরুতর ক্ষত রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও দেখা গেছে, যা তাকে প্রতিরোধ বা চিৎকার করা থেকে বিরত রাখার ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাবার মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়ায় এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তদন্ত চালাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পরিবারে মাদকাসক্তি ও অভ্যন্তরীণ কলহ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একই ঘরে থাকা আরেক ছেলে সাইফুর রহমানের বক্তব্যে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তাই তার ভূমিকা গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।