খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
ডামি নির্বাচন ও ভোট চুরির অভিযোগে টাঙ্গাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল, স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিকসহ ১৯৩ জনকে আসামি করে করা মামলা প্রত্যাহার করেছেন বাদী। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
বুধবার (২১ মে) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা আমলি আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম-এর আদালতে বাদী কামরুল হাসান মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে আদালত বাদী ও তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য শুনে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পরিদর্শক মো. লুৎফর রহমান বলেন, মামলার আর কোনো কার্যক্রম চলবে না।
জানা যায়, গত ১৯ মে মামলাটি করেন ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান। মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তিনি মামলায় স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিককেও আসামি করেন, যা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। পরে মঙ্গলবার (২০ মে) দিনভর নানা নাটকীয়তার পর সাংবাদিকদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অনাপত্তিপত্র দেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান খান জানান, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ডামি’ আখ্যা দিয়ে মামলাটি করা হয়েছিল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য ছিল আগামী ১৩ আগস্ট।
মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী কামরুল হাসান জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার নির্দেশে মামলাটি প্রত্যাহার করেছেন। সিদ্ধান্তটি এসেছে দলীয় ‘ওপর মহল’ থেকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি দিনভর ঢাকায় ছিলেন। মামলা প্রত্যাহারের খবর শুনেছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, মামলা দায়ের বা প্রত্যাহার—কোনোটিই জেলা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করে হয়নি। কীভাবে মামলা হলো, আবার কেনইবা তা প্রত্যাহার হলো—এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, এ ধরনের মামলা করার আগে জেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার অভিযোগে বাদী দাবি করেন, ভারতের ‘পরোক্ষ নির্দেশে’ শেখ হাসিনা ও অন্য আসামিরা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ‘ডামি নির্বাচন’ আয়োজন করেন। ভোটকেন্দ্রে হামলা, মারধর, হত্যার হুমকি ও জাল ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে বিজয়ী দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।