খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টাকার জন্য এক কিশোর বাবা-সন্তান সংঘাতের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫)কে আটক করা হয়েছে। ভোরবেলা তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের দড়ি জাহাঙ্গীরপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়। নিহত রমজান মিয়া (৪৫) স্থানীয় মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর আনুমানিক ৫টার সময় বাবা ও ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ জুয়েল মিয়া দা নিয়ে তার বাবা রমজান মিয়ার ওপর হামলা চালান। দারাঘাতের ফলে রমজান গুরুতরভাবে আহত হন।
চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে ঘরের দরজা ভেঙে রমজানকে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা অভিযুক্ত জুয়েলকে আটক করে পুলিশকে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা এবং নগদ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
তাড়াইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকার জন্যই মাদকাসক্ত জুয়েল মিয়া এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়ন, দড়ি জাহাঙ্গীরপুর (মধ্যপাড়া), তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ |
| সময় ও তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভোর ৫টা |
| নিহত | রমজান মিয়া, বয়স ৪৫, মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে |
| অভিযুক্ত | জুয়েল মিয়া, বয়স ২৫, ছেলে |
| হত্যা হতো উপকরণ | দা |
| উদ্ধারকৃত নগদ | ২৩,০০০ টাকা |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | মো. শ্যামল মিয়া, পরিদর্শক (তদন্ত), তাড়াইল থানা |
| সম্ভাব্য কারণ | টাকার জন্য, মাদকাসক্তি সংক্রান্ত সংঘাত |
| মরদেহের ময়নাতদন্ত | কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার মূল কারণ উন্মোচন করা।
এই ঘটনা সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে—কিভাবে টাকার লোভ এবং মাদকাসক্তি এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তদন্ত চলাকালীন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।