খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিয়ে এমন এক অনুষ্ঠান যা দুটি মানুষ এবং তাদের পরিবারকে একত্রিত করে। এটি একটি সম্পর্কের বন্ধন যা দম্পতিকে ভালোবাসা এবং অঙ্গীকারে বেঁধে রাখে। বিভিন্ন দেশে বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানও ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
সাধারণভাবে বিয়েকে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তৈরি একটি বন্ধন হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি দেশও রয়েছে যেখানে ‘স্ত্রী’ ভাড়া পাওয়া যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে।
থাইল্যান্ড—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মনোরম সমুদ্রসৈকত এবং প্রাণবন্ত রাত্রিজীবনের জন্য বিশ্ববিখ্যাত দেশ। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক এই দেশে ভ্রমণে যান। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইতে দাবি করা হয়েছে, থাইল্যান্ডে ‘স্ত্রী’ ভাড়া পাওয়া যায়।
ল্যাভার্ট এ ইম্যানুয়েলের লেখা ‘তাই ট্যাবু—দ্য রাইজ় অফ ওয়াইফ রেন্টাল ইন মডার্ন সোসাইটি’ বইটিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে বলা হয়েছে, নিজেদের এবং পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এই কাজটি বেছে নেন থাইল্যান্ডের দরিদ্র পরিবারের নারীরা। সাধারণত তারা বার বা নাইটক্লাবে কাজ করেন এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে দেখা করেন।
বই অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নারীরা পর্যটকদের সঙ্গে ‘ভাড়ার স্ত্রী’ হিসেবে বসবাস করেন। কোনো পর্যটক যদি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, তবে তাকে বিয়ে করার বিকল্পও থাকে।
ইম্যানুয়েলের মতে, এই প্রবণতা থাইল্যান্ডের পাটায়াতে বেশি দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে ‘ব্ল্যাক পার্ল’ নামেও পরিচিত এই ব্যবস্থা। একজন নারী অর্থের বিনিময়ে অস্থায়ীভাবে কোনো পুরুষকে ‘স্ত্রী’ হিসেবে সঙ্গ দেন। ভাড়াটে স্ত্রীরা রান্না করা থেকে শুরু করে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, এমনকি একই ছাদের তলায় থাকা—সবই করেন। পুরো বিষয়টি চুক্তিনির্ভর, এবং কোনোভাবেই বৈধ বিয়ে হিসেবে বিবেচিত হয় না।
ইম্যানুয়েলের বই অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। অনেক নারীই স্বেচ্ছায় ‘ব্ল্যাক পার্ল’ পরিষেবায় যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিষেবার জন্য ভাড়াটে স্ত্রীরা ১.৩ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন।
সমাজের একাংশ এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করলেও অনেকে সমালোচনা করেছেন। ইতিমধ্যেই হইচই পড়ে গেছে এবং নৈতিকতার দিক থেকেও প্রশ্ন তুলেছেন বহু মানুষ।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইল্যান্ডের পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে এই প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাকিত্ব এই প্রবণতা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। এছাড়া, অনেকেই এখন স্থায়ী সম্পর্কের পরিবর্তে অস্থায়ী সম্পর্ককে বেশি পছন্দ করছেন। আর এ কারণেই থাইল্যান্ডে ‘ভাড়ার স্ত্রী’ প্রথার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সরকারও এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে, নারীদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার একটি আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা করছে।
খবরওয়ালা/শরিফ