টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতের একটি বিশেষ অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা একাধিক দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র এবং সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার ঘাটান্দি নতুনপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। এ সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে চারজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হলেও তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন গোপালপুর উপজেলার ভোলারপাড়া গ্রামের আহসান আলী আকন্দের ছেলে রবিউল (বয়স ৩৮), ভূঞাপুর উপজেলার কুকাদাইর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মনির ওরফে ন্যাংড়া মনির (বয়স ৩৮), কালিহাতী উপজেলার শ্যামশৈল গ্রামের শামছুল হকের ছেলে শাহ আলম (বয়স ৪৫) এবং একই গ্রামের আ. আজিজের ছেলে মাসুদ (বয়স ৩২)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহার কাটার, কাটিং প্লাস, শিকল, কাঁচি, সুইচ গিয়ার, চাকু ও চাপাতি। এসব সরঞ্জাম ডাকাতির সময় দরজা-জানালা কেটে প্রবেশ বা প্রতিরোধ ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্দেহের মধ্যে ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে নাশকতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল।
গ্রেপ্তার অভিযানের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত আলামতগুলো তালিকাভুক্ত করে থানায় নিয়ে যায় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য নিম্নে সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| অভিযানের স্থান |
ঘাটান্দি নতুনপাড়া, ভূঞাপুর |
| সময় |
সোমবার রাত সাড়ে দশটা |
| গ্রেপ্তার সংখ্যা |
চারজন |
| গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় |
রবিউল, মনির ওরফে ন্যাংড়া মনির, শাহ আলম, মাসুদ |
| উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম |
লোহার কাটার, কাটিং প্লাস, শিকল, কাঁচি, সুইচ গিয়ার, চাকু, চাপাতি |
| অভিযানের নেতৃত্ব |
এসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই রুবেল মিয়া |
| পলাতক সদস্য |
কয়েকজন সহযোগী |
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, দস্যুতা, মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।