খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লীতে ভয়াবহ আগুনে যৌনকর্মীদের ১২টি বসতঘর ও ১০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে কয়েকজনের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ঘর ও মালামাল গ্রাস করে নেয়।
ভুক্তভোগী যৌনকর্মীদের ভাষ্যমতে, ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, অলংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এমনকি খাদ্যদ্রব্য পর্যন্ত কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এক যৌনকর্মী বলেন, ‘পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বাঁচেনি। এখন খাওয়ার নেই, থাকার নেই, এমনকি একটা চিরুনি পর্যন্ত নেই।’
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা এস এম হুমায়ুন কার্ণায়েন গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুনে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নারী মুক্তি সংঘের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই নারীরা এখন চরম মানবিক সংকটে। খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।’
দেশের অন্যতম পুরোনো ও বিতর্কিত এই যৌনপল্লীতে কাজ করা মানুষগুলোর জীবন এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। তার ওপর এই অগ্নিকাণ্ড তাদের জীবনযাত্রাকে একেবারে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দাতব্য সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া তাদের দুর্দশা কাটানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবরওয়ালা/আরডি