খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টিকটকে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর দেখা করতে গিয়েই বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারে। এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছেলের মা।
পুলিশ জানায়, কুলাউড়া উপজেলার এক কিশোর (১৫) ও জুড়ী উপজেলার এক কিশোরী (১৫) টিকটকে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। গত শুক্রবার দুপুরে তারা জুড়ী উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করতে যায়। এ সময় মেয়েটির স্বজনেরা সেখানে গিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের উপস্থিতিতে এক ইমাম দিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করা হয়।
ওই ঘটনার ভিডিও ছেলেটির এক বন্ধু মুঠোফোনে ধারণ করে ছেলের স্বজনদের পাঠালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জুড়ীর জায়ফরনগর ইউনিয়নে মেয়েটির এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ কিশোর–কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।
ছেলেটি কুলাউড়ার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।
ছেলের মা বাদী হয়ে জুড়ী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মেয়ের বাবা, মা, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ‘শুক্রবার দুপুরের পর থেকে ছেলের খোঁজ পাচ্ছিলাম না, ফোনও বন্ধ ছিল। রাতে ছেলের এক বন্ধু জানায়, তারা জুড়ীতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে মেয়ের স্বজনেরা জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেয়। ভিডিওও আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, জোর করে ছেলেকে ধরে নেওয়া এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা। ছেলে ও মেয়েকে আদালতে পাঠানো হবে। আদালত তাদের জবানবন্দি নেবেন। আসামিরা পলাতক, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
খবরওয়ালা/শরিফ