খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের অভিযানে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের একটি গোপন আস্তানা থেকে স্থানীয় তিনজন ও এক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযান রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন স্থানীয় ব্যক্তি—শামশুল আলম (৩৬), রমজান (২৪) ও জিয়াবুল (২১)। তারা কক্সবাজারের খুরুশকুল ও উখিয়ার বাসিন্দা। চতুর্থ ব্যক্তি হলেন রহিমুল্লাহ (৪৮), যিনি বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা।
টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক দূর্জয় বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে জানান, পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্তত ১৫-১৬ জন নারী ও পুরুষকে ওই পাহাড়ি আস্তানায় জড়ো করে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পাচারকারীরা দৌড়ে পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীপাড়ার বাসিন্দা ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সিন্ডিকেট কয়েক দিনের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ব্যক্তিদের মালয়েশিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া চারজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও সিন্ডিকেট প্রধান ফারুক ও অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| উদ্ধারকৃত সংখ্যা | ৪ জন |
| স্থানীয় ব্যক্তি | শামশুল আলম (৩৬), রমজান (২৪), জিয়াবুল (২১) |
| রোহিঙ্গা ব্যক্তি | রহিমুল্লাহ (৪৮), বালুখালী ক্যাম্প বাসিন্দা |
| ঘটনা স্থান | নোয়াখালীপাড়া, বাহারছড়া ইউনিয়ন, টেকনাফ |
| অভিযান সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬, বিকেল |
| সিন্ডিকেট প্রধান | ফারুক (নোয়াখালীপাড়া বাসিন্দা) |
| সিন্ডিকেট সদস্য সংখ্যা | ১৫-১৬ জন নারী ও পুরুষ |
| উদ্ধারকৃতদের উদ্দেশ্য | মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা |
| পুলিশ ব্যবস্থা | উদ্ধার, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত |
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা ধ্বংস এবং চারজনকে উদ্ধার করা অভিযানটি মানবপাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পুলিশের তৎপরতা ও স্থানীয় সহায়তা যৌথভাবে এই উদ্ধারকাজ সফল করেছে। অপরদিকে, সিন্ডিকেট প্রধান ফারুকসহ পালিয়ে যাওয়া পাচারকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে, দ্রুত সকল অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই ঘটনাটি মানবপাচারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে এবং টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপগুলির গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।