খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের বীমা দাবির ব্যয় হ্রাস এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া উন্নত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করছে। তবে আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরনো আমলের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা পদ্ধতি এবং খণ্ডিত বা অগোছালো উপাত্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখনো আশানুরূপ বা অর্থপূর্ণ আর্থিক রিটার্ন বা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে না। অধিকাংশ বীমা কোম্পানি তাদের সামগ্রিক কার্যক্রমের পরিবর্তে ব্যবসার কেবল নির্দিষ্ট বা বিচ্ছিন্ন কিছু অংশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখছে, যা এর আর্থিক প্রভাবকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।
একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এবং একটি গবেষণা সংস্থার জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বীমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি পরিসংখ্যানগত রূপরেখা নিচে ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় বা সূচক | সময়কাল বা বছর | প্রাপ্ত তথ্য ও পরিসংখ্যানগত হার |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি (রাজস্বের তুলনায়) | ২০২৬ সাল (পূর্বাভাস) | ১.৯ শতাংশ (যা গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি) |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারে পরিচালন ব্যয় হ্রাস | বর্তমান ও ভবিষ্যৎ | আনুমানিক ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় সংকোচন সম্ভব |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারে প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি | বর্তমান ও ভবিষ্যৎ | মোট সংগৃহীত প্রিমিয়াম সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন | বর্তমান | ৬৩ শতাংশের সামান্য উন্নতি এবং ১১ শতাংশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি |
| ব্যবসায়িক মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক পরিবর্তন | ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল | প্রায় ৬০ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তনের আশা রাখে |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা | ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল | দুই-তৃতীয়াংশ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য |
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে সকল বীমা কোম্পানি তাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে গভীরভাবে একীভূত বা যুক্ত করতে পারবে, তারা তাদের পরিচালন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। একই সাথে এই সমন্বিত প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সংগৃহীত প্রিমিয়ামের পরিমাণ আরও ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। বর্তমানে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন, মূল্য নির্ধারণের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক পর্যায়ে জاليةতি বা প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং দৈনন্দিন রুটিন কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পথে মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে পুরোনো প্রাতিষ্ঠানিক শাসন কাঠামো ও সেকেলে প্রযুক্তি ব্যবস্থা। গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো আমলের প্রযুক্তিগুলো এই ধরণের উন্নত প্রযুক্তির উপাত্ত বা ডেটা সমন্বয়ের জন্য তৈরি করা হয়নি, যার ফলে এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া উপাত্ত বা ডেটা যদি খণ্ডিত, অগোছালো কিংবা দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি থেকে প্রাপ্ত ফলাফল নির্ভরযোগ্য বা সঠিক হয় না।
এই সকল বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বীমা শিল্পে এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে যে সকল বীমা প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী প্রতি উৎপাদনশীলতায় সামান্য উন্নতির কথা জানিয়েছে এবং ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী প্রতি পরিমাপযোগ্য বা উল্লেখযোগ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ইতিবাচক ফলের কারণে দুই-তৃতীয়াংশ বীমা কোম্পানি আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তাদের মূলধনী বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর দৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।