খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক দলের মধ্যে যতই মতপার্থক্য থাকুক, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দল আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দল হিসেবে আইসিটি আইনে আওয়ামী লীগের বিচার সম্ভব এবং তাঁদের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএফডিসি মিলনায়তনে ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মব সন্ত্রাস যেটা হচ্ছে এটা এক ধরনের ক্রোধ। এটা বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থা নয়। বরং গত ১৭ বছরের জমে থাকা ক্রোধ। তবে এই ক্রোধ সমীচীন নয়। স্বজন হারানোর ক্রোধ, গুম করার ক্রোধ, মিথ্যা গায়েবি মামলার ক্রোধ— এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যারা ক্রোধ করছে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার।’
নতুন সংবিধান প্রণয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে সংবিধান লেখা যেতেই পারে। লিখতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু একইসঙ্গে আমাদের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধে রক্তের বিনিময়ে লেখা ৭২-এর সংবিধান। আমি বিশ্বাস করি, এটি এখনও বিশ্বের ওয়ান অব দ্য ফাইনেস্ট কনস্টিটিউশন। গত ১৫ বছরে সংবিধান অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। বিতর্কিত সংশোধনীগুলো বাদ দিয়ে এটি আরও যুগোপযোগী করা সম্ভব।’
নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা সরকারের পলিসির বিষয়। তবে এই নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা সহযোগিতা করছেন, তারাও অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন।’ তাঁর মন্তব্য, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ কোনো রাজনৈতিক দলের না। জুলাইয়ের শহীদরা কোনো রাজনীতির কেউ না। তারা স্বৈরাচার আমলের ভুক্তভোগী হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তারা সবাই নাগরিক প্রতিনিধি। জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা হলো সুশাসন। দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এর প্রধান লক্ষ্য। ফ্যাসিস্টরা যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ছায়া সংসদে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, উপসচিব রোকেয়া পারবীন জুই, উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক হাসান জাবেন এবং আহমেদ সারওয়ার ভুইয়া। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না। এ আন্দোলনের প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ড শেখ হাসিনার সম্মতি ছাড়া হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, দেশের মালিক জনগণ। জনগণকে বঞ্চিত করে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।’
খবরওয়ালা/এন