খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লাতিন আমেরিকার কূটনীতি তোলপাড় করার মতো একটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন যে, কলম্বিয়া এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার করছে। তিনি সতর্ক করেন, পেত্রোর উচিত “নিজের স্বার্থ বিবেচনা করা”, নাহলে তার গুরুতর ঝুঁকি হতে পারে।
সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প সম্প্রতি পেত্রোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না, তিনি উত্তরে বলেন যে পেত্রো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব” ধারণ করছেন এবং তাই কোনও সংলাপকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। আরও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যদি সে নিজের কল্যাণ বিবেচনা না করে, তবে সে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। আমরা এমন মানুষদের পছন্দ করি না যারা মানুষ হত্যা করে।”
এই মন্তব্যগুলি এমন সময় এসেছে যখন ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে কারিবীয় এলাকায় চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। কলম্বিয়ার জন্য সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ দেশের প্রথম বামপন্থী রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেত্রো বহু বছর পুরনো মাদকনীতিকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছেন। তিনি শুধুমাত্র উৎপাদন কমানো নয়, বরং অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। তার প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮,০০০টিরও বেশি অবৈধ মাদক ল্যাব ধ্বংস করা হয়েছে। তবুও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে পেত্রো কোকেন উৎপাদন কমাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মুখে। এক সময় যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়াকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দিত, এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক ফেরার পর সম্পর্ক খারাপের দিকে অগ্রসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিবাসন নীতি নিয়ে উভয় নেতার মধ্যে তিক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে; পেত্রো কঠোর প্রত্যাহারের নীতি সমর্থন করছেন, আর ট্রাম্প ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
পেত্রোও সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কলম্বিয়ার মাদকবিরোধী প্রচেষ্টা রক্ষার কথা বলেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে মিত্র দেশের উপর আক্রমণ শতাব্দীর কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তিনি ট্রাম্পকে কলম্বিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়ে মাদক ল্যাব ধ্বংসের প্রক্রিয়া দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
একই সঙ্গে পেত্রো সম্প্রতি কারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক হামলাকে “হত্যা” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন, যেখানে অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। জাতিসংঘও এগুলিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অবনতি এলাকায় উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এখন একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মাদক যুদ্ধ, অভিবাসন সংকট এবং আঞ্চলিক রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। প্রতিটি মন্তব্যই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।