খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রেক্ষাপটে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছা বজায় রেখে কাজ করেছেন। অপরদিকে, আলোচনার টেবিলে নিজের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং ইরানের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালিয়েছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হিসেবে সব ধরনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু সময়োপযোগী শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করার শর্তও এতে যুক্ত রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়াবলিও এই চুক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। সমঝোতা স্মারকের শর্তানুযায়ী, ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো সচল করার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর বহাল থাকা বিভিন্ন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি তাঁর বার্তায় খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে এর বিভিন্ন দিক ও শর্তাবলির ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত ভিন্নমত ও দ্বিমত ছিল। তবে ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও অনুমতি দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কাছে এই মর্মে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যে, এই চুক্তির প্রতিটি ধাপে তাঁরা সামগ্রিক ইরানি জাতি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধের অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করবেন। সর্বোচ্চ নেতা আরও জানান, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁকে পরিষ্কারভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার কোনো পর্যায়েই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের অতিরিক্ত ও অন্যায্য দাবি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ইরান এখন চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে কড়া নজর রাখছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সমস্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণ চুক্তিতে উল্লেখিত শর্তসমূহ সঠিকভাবে পূরণের জন্য অপেক্ষা করবে।
“ভবিষ্যতে সরাসরি যে আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুর সব কথা মেনে নেব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে যে সরাসরি ও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেটিকে ইরানের দুর্বলতা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই আলোচনা প্রক্রিয়ার অর্থ কখনোই এটি নয় যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত শর্ত বা মৌখিক নির্দেশনাবলি অন্ধভাবে মেনে নেবে। ইরান নিজের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ বজায় রেখেই টেবিলে আলোচনা সচল রাখবে। বার্তার শেষাংশে সর্বোচ্চ নেতা ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বলেন যে, ইমাম মাহদীর বিশেষ আশীর্বাদ ও প্রার্থনা আগামী দিনে ইরানি জাতির জন্য আরও একটি নতুন ও ঐতিহাসিক বিজয় বয়ে আনবে।