খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে ‘ট্রায়াল ড্রাইভ’ দেওয়ার নাম করে গ্যারেজ থেকে একটি জিপ গাড়ি নিয়ে আত্মসাৎ এবং পরবর্তী সময়ে মালিককে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও গাড়িটি ফেরত না পাওয়ায় গ্যারেজ মালিক নূর আহমদ শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
নূর আহমদ জানান, নগরীর বন্ধগেট এলাকায় তাঁর একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে নিয়মিত গাড়ি মেরামতের পাশাপাশি তিনি বৈধভাবে গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসাও করেন। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে যুবদল নেতা তন্ময় তাঁর গ্যারেজে আসেন এবং সেখানে থাকা একটি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। দর-কষাকষির পর গাড়িটির দাম ছয় লাখ টাকায় চূড়ান্ত হয়। এরপর তন্ময় ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে গাড়িটি নিয়ে যান।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফেরেননি। নূর আহমদ একাধিকবার ফোন করলেও প্রথমে ফোন রিসিভ করা হয়নি। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন তন্ময়। একপর্যায়ে তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি যুবদলের নেতা, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা নিলেও কিছু হবে না। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নূর আহমদ।
এ ঘটনায় নূর আহমদ গত ১৪ ডিসেম্বর রাজপাড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে পুলিশের পরামর্শে ২২ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাননি বলে অভিযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে নূর আহমদ আরও বলেন, গাড়িটি তিনি লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে বৈধভাবে কিনেছেন এবং বিআরটিএসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত তন্ময়ের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতারণার মাধ্যমে গাড়ি আত্মসাতের একটি মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, যুবদল নেতা তন্ময় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গাড়িটি তিনি অচল অবস্থায় নিয়েছিলেন এবং মালিক নিজেই আগেও অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগটি যাচাই করে কেন্দ্রীয় যুবদলকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৮ নভেম্বর | গ্যারেজ থেকে ট্রায়ালের নামে জিপ নেওয়া |
| ১৯–২৫ নভেম্বর | একাধিকবার যোগাযোগ, গাড়ি ফেরত না দেওয়া |
| ১৪ ডিসেম্বর | থানায় অভিযোগ, মামলা গ্রহণ হয়নি |
| ২২ ডিসেম্বর | সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের |
| রোববার | সংবাদ সম্মেলন আয়োজন |
এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার ও সাধারণ ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা নগরবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।