খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশে দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ সরকারী ট্রেজারি বন্ড (BGTB)-এর সুদের হার মঙ্গলবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেখাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার মাত্রা বেড়েছে। অর্থবছরের সমাপ্তি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি সিকিউরিটি বা তরল সম্পদ বেছে নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক নিলামের ফলাফলে, ১৫ বছরের ট্রেজারি বন্ডের কাটা-অফ সুদ হার ১০.৭৪% থেকে বেড়ে ১০.৮৯% এবং ২০ বছরের বন্ডের সুদ হার ১০.৮২% থেকে ১০.৯০% হয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, তখন ১৫ এবং ২০ বছরের বন্ডের সুদ হার যথাক্রমে ১০.৭৪% এবং ১০.৮২% ছিল। তুলনামূলকভাবে, এর আগে ১৫ বছরের বন্ডের সুদ ছিল ১০.০৯% এবং ২০ বছরের বন্ডের ১০.৩০%। সরকারি নিলামে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যা আংশিকভাবে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বছরের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিতে অতিরিক্ত তহবিল বিনিয়োগে অনিচ্ছুক। তারা ঝুঁকি-মুক্ত এবং তরল সম্পদকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপ্রতিরোধের প্রবণতা বেড়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি বাজার অংশগ্রহণকারীরা স্বল্পমেয়াদি তরলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকার দিতে থাকে, দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ বৃদ্ধির এই ধারা আগামী সপ্তাহেও চলতে পারে।”
বর্তমানে, ২-, ৫-, ১০-, ১৫- এবং ২০ বছরের মেয়াদী সরকারী বন্ডগুলি সেকেন্ডারি মার্কেটে সক্রিয়ভাবে লেনদেন করা হচ্ছে। এছাড়া, সরকার ত্রৈমাসিকভাবে স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল (T-bill) ইস্যু করে নগদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক তরলতা রক্ষা করছে।
নিচের টেবিলে সম্প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ পরিবর্তন তুলে ধরা হলো:
| মেয়াদ | পূর্বের সুদ হার (%) | বর্তমান সুদ হার (%) | পরিবর্তন (bps) |
|---|---|---|---|
| ১৫ বছর BGTB | 10.74 | 10.89 | +15 |
| ২০ বছর BGTB | 10.82 | 10.90 | +8 |
সরকারি ট্রেজারি সিকিউরিটি দেশের রাজস্ব ঘাটতি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক নীতিমালা প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি বন্ড উভয়ই দারিদ্র্য ব্যবস্থাপনা এবং বাজার স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি সুদের বৃদ্ধির ঘটনা বিনিয়োগকারীর ঝুঁকিপ্রতিরোধ ও সরকারের তহবিল চাহিদার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রকাশ করছে।