ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ বর্ষের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ইউসুফ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ফরিদ নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের চিত্র
গত বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ২৬৩ জন ভোটারের মধ্যে ২৫০ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ইউসুফ আলী ১১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর মোস্তাক আলম (টুলু) পেয়েছেন ১১১ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ৪ ভোটের ব্যবধানে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ফরিদ জয়লাভ করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা ‘সবুজ প্যানেলে’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮টি পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
দলভিত্তিক জয়ী প্রার্থীদের তালিকা:
আওয়ামী লীগ সমর্থিত (৫ জন):
১. সহ-সভাপতি: জিতেন চন্দ্র পাল
২. সহ-সভাপতি: মোঃ রুহুল আমিন
৩. সাধারণ সম্পাদক: মোঃ শেখ ফরিদ
৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মোঃ শহরাব হোসেন প্রধান
৫. সাংস্কৃতিক ও কমনরুম সম্পাদক: শাহরীয়ার ইবনে মোস্তফা
বিএনপি সমর্থিত (৭ জন):
১. সভাপতি: ইউসুফ আলী
২. কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক: কামাল হোসেন
৩. লাইব্রেরি সম্পাদক: আবদুল মান্নান
৪. সদস্য: রফিজ উদ্দিন
৫. সদস্য: নাজমা বেগম
৬. সদস্য: আহসান হাবিব
৭. সদস্য: আনারুল হক
উল্লেখ্য, ৪টি সদস্য পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা কোনো প্রার্থী দেননি।
ষড়যন্ত্র ও কারচুপির অভিযোগ
ফলাফল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটার ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু বকর মোস্তাক আলমকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটারা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সভাপতি প্রার্থীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ৩-৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।” তবে নির্বাচন কমিশন থেকে এই অভিযোগের বিপরীতে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।