খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোর একটি তামা ও কোবাল্ট খনিতে প্রবেশের জন্য তৈরি অস্থায়ী মই ভেঙে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। লুয়ালাবা প্রদেশের প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয় কাউম্বা মায়োন্ডে জানিয়েছেন, শনিবার ওই খনির প্লাবিত এলাকায় সেতুটি ভেঙে পড়ে।
তিনি বলেন, ৩২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের খোঁজ চলছে। কঙ্গো বিশ্বের কোবাল্ট সরবরাহের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ব্যাটারির জন্য অপরিহার্য।
দেশটিতে প্রায় ২ লাখের বেশি শ্রমিক অবৈধ কোবাল্ট খনিতে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লুয়ালাবা প্রদেশের রাজধানী কোলওয়েজি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কালান্দো খনিতে সেতুটি ধসে পড়ে। মায়োন্ডে জানিয়েছেন, “ভারি বৃষ্টি এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে সাইটে প্রবেশে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, অনেক শ্রমিক তা অমান্য করে খনিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে।”
প্রধানত বন্যার পানি আটকানোর জন্য খনিতে অস্থায়ী মই তৈরি করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে সেটি পার হওয়ার চেষ্টা করায় মই ভেঙে পড়ে এবং মাটি ধসে একে অপরের ওপর পড়ে। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
খনি তদারকি সংস্থা এসএইএমএপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে সেনাদের গুলির শব্দে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হন। আতঙ্কে সবাই মই পার হতে গিয়ে পড়ে এবং মাটিতে চাপা পড়ে যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খনির মালিক ও শ্রমিকদের সমবায় মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং সেখানে চীনা পক্ষের অংশগ্রহণও ছিল।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (সিএনডিএইচ) প্রাদেশিক কার্যালয় থেকে এএফপিকে পাঠানো ছবিতে খনি শ্রমিকদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে দেখা গেছে, যেখানে অন্তত ১৭টি মৃতদেহ মাটিতে পড়ে আছে। প্রাদেশিক সমন্বয়কারী আর্থার কাবুলো জানিয়েছেন, কালান্দোতে ১০ হাজারের বেশি খনি শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ রবিবার থেকে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
ডিআর কঙ্গোর খনিতে শিশু শ্রম, বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। দেশটির খনিজ সম্পদও পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সেনাবাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: এএফপি
খবরওয়ালা/টিএসএন