খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বরিশালের মুলাদীতে একটি সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন থেকে উপস্থিত জনগণ—সবাইকে হতভম্ব করে দেয়। শনিবার সকালবেলা নাজিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে উপস্থিত হন। কিন্তু উদ্বোধন শুরুর আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
জানা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক ব্যক্তিরা—বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. খায়রুল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার, এবং মুলাদী থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা। তাঁদের উপস্থিতিতেই হঠাৎ কয়েকশ স্থানীয় মানুষ ‘উদ্বোধন মানি না’ স্লোগান তুলে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।
অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মঞ্চ, চেয়ার, লালগালিচা এবং নতুন সেতুর নামফলক ভাঙচুর করে ফেলে। এমনকি বিছানো কার্পেট উপড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেতুর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকেই মূল ক্ষোভের সৃষ্টি। স্থানীয় সূত্র বলছে, সেতুটির নাম ছিল ‘নাজিরপুর–রামারপোল সৌহার্দ্য সেতু’। ২০১৪ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়ও এই নামটাই ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর এ বছর নির্মাণ শেষ হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হঠাৎ নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অসম্মানজনক’ মনে করেছেন, কারণ তাদের দাবি—এটি তাদের গ্রামের দুই অংশের সৌহার্দ্য ও সংযোগের প্রতীক হিসেবে বহাল থাকা উচিত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা সুপার মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আপত্তি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু নাম পরিবর্তন নিয়ে কেউ কথা শুনলো না। তাই লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের মতামত গ্রহণ না করে জোর করে নতুন নাম উন্মোচনের চেষ্টা করছিল।
ফলে স্থানীয় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুলাদী ও কালকিনি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘটে গেছে ব্যাপক ভাঙচুর।
ঘটনার পর মুলাদী থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় কিছু লোকের আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুরের কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। তদন্ত চলছে।”
এদিকে ইউএনও গোলাম সরওয়ার জানান, “নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয়রা আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। আমরা তা উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছিল।”
পুরো ঘটনাটি প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে অনেকে মত দিয়েছেন।