খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর হামলার পর ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে এখন পর্যন্ত ৮৭ জন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৩২ জন নাবিককে। এই তথ্য শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী প্রকাশ করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে শহর থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৭৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থানরত জাহাজটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিপদসংকেত পাঠায়। জাহাজের নথি অনুযায়ী, ১৮০ জন আরোহী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার নৌবাহিনীর জাহাজ এবং বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুধিকা সম্পথ বলেন, ডুবে যাওয়া এলাকায় অন্য কোনো জাহাজ বা উড়োজাহাজ দেখা যায়নি।
কলম্বোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিত নাবিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাস্থল ও দুর্ঘটনার কারণ বোঝার জন্য দুইজন কর্মকর্তা গলে পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, শ্রীলঙ্কার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো নিক্ষেপ করে ইরানের যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি প্রথমবার শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরাসরি হামলা।
| পরিমাণ | বিবরণ |
|---|---|
| ৮৭ | মরদেহ উদ্ধার |
| ৩২ | জীবিত উদ্ধার |
| ১৮০ | জাহাজের মোট আরোহী (অনুমান) |
| ৪০ নটিক্যাল মাইল | দুর্ঘটনার স্থান, গলে শহর থেকে দূরত্ব |
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী জানায়, নিখোঁজদের খোঁজে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান। উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একযোগে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা হতে পারে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিরল।
এই দুর্ঘটনার ফলে ইরানি নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নতুনভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।