ঢাকার আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের চিত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার স্থানান্তরের হার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। বিএনপিসহ কয়েকটি দল দাবি করেছে, ঢাকার কিছু সংসদীয় আসনে ‘অস্বাভাবিক’ হারে ভোটার স্থানান্তর ঘটেছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তবে ইসি বলছে, আইন ও বিধিমালার আলোকে পরিচালিত নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই স্থানান্তর হয়েছে; এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।

ইসি জানায়, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের আগস্টে ভোটারদের ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ শুরু করা হয়। এ কার্যক্রম বছরজুড়েই চলমান ছিল, যাতে কর্মসূত্রে স্থানান্তর, পড়াশোনা, ভাড়াবাসা পরিবর্তন বা স্থায়ীভাবে বসবাসের কারণে ভোটাররা তাদের প্রকৃত ঠিকানায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মহানগরকেন্দ্রিক জনসংখ্যা প্রবাহ, নতুন আবাসন প্রকল্পে বসবাস বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ায় ভোটার স্থানান্তরের চাপ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট কয়েক লাখ ভোটার তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। ঢাকা অঞ্চলে এই সংখ্যা ৮৬,৮২৫ জন। ঢাকার জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,৯৯২ জন। তুলনামূলকভাবে কুমিল্লা অঞ্চলে ১,০৫,৫৪৩ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন, যা অঞ্চলভিত্তিক সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় স্থানান্তর হয়েছে।

ঢাকার কয়েকটি আলোচিত আসনে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের উপস্থিতির কারণে ভোটার স্থানান্তরের সংখ্যা নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে। ইসির তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-১ আসনে সর্বোচ্চ ৪,৭৩২ জন ভোটার স্থানান্তর হয়েছেন। বিপরীতে, ঢাকা-৭ আসনে সবচেয়ে কম ৬৭৬ জন ভোটার স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী পরিচিতি বা রাজনৈতিক উত্তেজনা ভোটারদের স্থানান্তর সিদ্ধান্তে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে—এমন প্রমাণ সুস্পষ্ট নয়; বরং নাগরিক জীবনের বাস্তব পরিবর্তনই বড় নিয়ামক।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা হয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা বা গণহারে কৃত্রিম স্থানান্তরের সুযোগ নেই। তবু বিরোধী দলগুলোর আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আসনভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

অঞ্চলভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের সারসংক্ষেপ (নভেম্বর পর্যন্ত)

অঞ্চল/এলাকা স্থানান্তরিত ভোটার সংখ্যা
ঢাকা অঞ্চল ৮৬,৮২৫
কুমিল্লা অঞ্চল ১,০৫,৫৪৩
বরিশাল অঞ্চল ৮৫,৭২০
খুলনা অঞ্চল ৮১,৭২৫
ময়মনসিংহ অঞ্চল ৭৮,৮০৫
রাজশাহী অঞ্চল ৭২,৮১৫
রংপুর অঞ্চল ৬৩,৮৯৭
ফরিদপুর অঞ্চল ৩৯,০৯৫
চট্টগ্রাম অঞ্চল ৩০,০৮৫
সিলেট অঞ্চল ২৭,৫৭৬

ঢাকার কয়েকটি আলোচিত আসনে ভোটার স্থানান্তর

আসন নম্বর স্থানান্তরিত ভোটার
ঢাকা-১ ৪,৭৩২
ঢাকা-১৭ ৩,০৩৯
ঢাকা-১৫ ৩,৫২০
ঢাকা-১১ ৩,১৪১
ঢাকা-৯ ২,৬৩৪
ঢাকা-৮ ৩,৬৩৩
ঢাকা-৭ ৬৭৬

সার্বিকভাবে ইসি বলছে, ভোটার স্থানান্তর একটি চলমান ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আস্থার সংকট কাটাতে তথ্যের উন্মুক্ততা, নিরপেক্ষ তদারকি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান উদ্যোগ জরুরি—এমন মত দিচ্ছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।