রাজধানী ঢাকার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে আজ জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে কোথাও একেবারে লাইন ছিল না, আবার কোথাও সীমিত সংখ্যক যানবাহন অপেক্ষায় ছিল। গ্রাহকেরা অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে।
ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির পরবর্তী সময়ে কিছুদিন আগে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ব্যাপক ভিড় ও দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হতো অনেক যানবাহনকে। তবে মঙ্গলবার শহীদবাগ, আরামবাগ, মতিঝিল ও মৎস্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল।
সকাল সাড়ে দশটার দিকে শহীদবাগ এলাকার রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মাত্র দুটি মোটরসাইকেল জ্বালানি নিচ্ছে। কোনো দীর্ঘ সারি নেই। এর আগে একই সময়ে এখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকত বলে জানা যায়। আজ সেখানে তিন থেকে চারটি ব্যক্তিগত গাড়ি পর্যায়ক্রমে জ্বালানি সংগ্রহ করে।
বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে ১০ থেকে ১৫টি ব্যক্তিগত গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে মোটরসাইকেলের কোনো লাইন ছিল না। এক গ্রাহক মো. শাহজাহান জানান, কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও জ্বালানি আসেনি, তবে দ্রুতই সরবরাহ আসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, জ্বালানি পৌঁছালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো লাইন শেষ হয়ে যায়।
দুপুরে মতিঝিল এলাকার করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও এখানে হাজারের বেশি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি জ্বালানির জন্য অপেক্ষায় ছিল। তবে মঙ্গলবার সেখানে কোনো স্থায়ী লাইন দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে কয়েকটি যানবাহন এসে দ্রুত জ্বালানি নিয়ে চলে যায়। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিজেলের সরবরাহ কিছুটা কম হলেও অকটেন সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
বেলা একটার দিকে মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশনে একই ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেখানে কোনো দীর্ঘ লাইন ছিল না। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি সরাসরি এসে জ্বালানি নিয়ে চলে যায়। এক রাইড শেয়ার চালক জানান, ভোগান্তি কমলেও জ্বালানির মূল্য এখনো তুলনামূলক বেশি, যা তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিচে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনের বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| এলাকা |
ফিলিং স্টেশন |
পর্যবেক্ষণ |
| শহীদবাগ |
রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন |
অল্প কয়েকটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি, লাইন প্রায় নেই |
| আরামবাগ |
মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশন |
১০–১৫টি ব্যক্তিগত গাড়ি অপেক্ষমাণ, মোটরসাইকেলের লাইন নেই |
| মতিঝিল |
করিম অ্যান্ড সন্স |
কোনো দীর্ঘ লাইন নেই, মাঝে মাঝে যানবাহন আসছে |
| মৎস্য ভবন |
রমনা ফিলিং স্টেশন |
লাইন নেই, সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ |
| শহীদবাগ |
রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন |
পূর্বের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কম |
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আংশিক ঘাটতি এখনো বিদ্যমান।