খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশজুড়ে ইতিবাচক ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির সূচনা করার লক্ষ্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ রবিবার সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যাচ্ছেন। তিনি নির্বাচনী মাঠের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দেখা করবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার গণমাধ্যমকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারেক রহমান দেশ গড়ার বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ মূলত নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রাথমিক পদক্ষেপ।
তারেক রহমানের আজকের কর্মসূচির বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
| নির্ধারিত সময় | গন্তব্য | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব |
| সন্ধ্যা ৭:০০ টা | জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসভবন | ডা. শফিকুর রহমান |
| রাত ৮:০০ টা | জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধানের বাসভবন | নাহিদ ইসলাম |
এর আগে শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে একক কোনো দল নয়, বরং সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হবে। তিনি দেশের জনগণকে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তার বিশেষ বার্তা ছিল নিম্নরূপ:
“নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে মাঠ পর্যায়ে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই বিরোধ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। আমাদের লক্ষ্য হবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের চিরাচরিত ‘বিভেদের রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার একটি সাহসী প্রয়াস। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতা নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি নির্দেশ করে যে, অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকেও বিএনপি যথাযথ সম্মান এবং গুরুত্ব দিতে ইচ্ছুক।
একইভাবে, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে তিনি এটি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় ইস্যুতে সংলাপের পথ সর্বদা খোলা থাকা উচিত। এই সফরগুলো দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে ৩১ দফা রূপরেখা বিএনপি আগে দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তিনি সকল দলের বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। নির্বাচনের পর একটি জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার বা কার্যকর সংসদ গঠনের লক্ষে এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎগুলো প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন দিনগুলোতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষা করা হবে তার দলের প্রধান অগ্রাধিকার।