খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের সামরিক বাহিনীর তিন জন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে বিশ্বমঞ্চে কাজে লাগানোর সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— মেজর জেনারেল মো. জাহাংগীর আলম, মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। উল্লেখ্য যে, এই তিন কর্মকর্তা সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের এই নতুন নিয়োগের ফলে সেনাবাহিনী থেকে তাদের চাকরি এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন।
| কর্মকর্তার নাম ও পদবি | বর্তমান অবস্থা | নতুন মন্ত্রণালয় | নিয়োগের ধরন |
| লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান | সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | প্রেষণে নিয়োগ (রাষ্ট্রদূত) |
| মেজর জেনারেল মো. জাহাংগীর আলম | সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | প্রেষণে নিয়োগ (রাষ্ট্রদূত) |
| মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ | সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | প্রেষণে নিয়োগ (রাষ্ট্রদূত) |
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেষণে সিভিল প্রশাসনে বা কূটনৈতিক মিশনে নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশে একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যে দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত আছেন অথবা যেখানে প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সেখানে অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এই পদায়ন ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের সাথে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী। এই কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন এই তিন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দেশের নাম ঘোষণা করবে, যেখানে তারা বাংলাদেশের পূর্ণক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করবেন। প্রশাসনিক এই রদবদল বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি আনা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।