খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডাকে তিন দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশাল মহাসমাবেশ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশের মূল দাবিগুলো হলো—নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং ‘পিআর পদ্ধতি’ অর্থাৎ সংখ্যানুপাতিক ভোট প্রবর্তন।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী যোগ দিচ্ছেন সমাবেশস্থলে। অনেকে আসছেন বাসে, অনেকে হেঁটে কিংবা মাইক্রোবাসে। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই উদ্যানের প্রতিটি গেট ছিল জনস্রোতে মুখর। ঢাকার বাইরে থেকে আগত মিছিলগুলো উদ্যানের চারপাশে রীতিমতো জনসমুদ্রের রূপ নিয়েছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, এই মহাসমাবেশ সফল করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী গণসংযোগ ও প্রচার চালানো হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ। জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে এই মহাসমাবেশকে তারা পরিণত করতে চান একটি রাজনৈতিক মিলনমেলায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। বিকেল ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক নেতারা বক্তব্য রাখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল নাগাদ উদ্যান ও আশপাশের রাস্তায় মানুষের ঢল আরও বাড়বে।
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ ঘিরে জাতীয় নেতাদের একটি মিলনমেলা গড়ে উঠেছে। এই সমাবেশ শুধু ইসলামী আন্দোলনের নয়, বরং নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাওয়া সব মানুষের দাবির প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও জানান, সমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে আহ্বায়ক করে ২৪ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২টি উপকমিটি মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করছে।
এ মহাসমাবেশ ঘিরে রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে না তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খবরওয়ালা/ এমএজেড