খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর রবিবার দুই দেশের প্রধান সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত রাতের উত্তেজনাকর ঘটনার পর নিরাপত্তা বিবেচনায় সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে আফগান সেনারা পাকিস্তানের সীমান্তচৌকিগুলোর দিকে গুলি চালায়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এটি ছিল গত সপ্তাহে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বিমান হামলার প্রতিশোধ। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর গুলির জবাবে তারা গোলাবর্ষণ ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালায়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এ হামলায় আফগান সীমান্তের বেশ কয়েকটি চৌকি ধ্বংস হয়েছে।
রবিবার সকালে সংঘর্ষ থেমে গেলেও পাকিস্তানের কুররম এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলি চলেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সীমান্ত বন্ধের বিষয়ে কাবুল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, তাদের সামরিক অভিযান শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রধান দুটি সীমান্তপথ—তোরখাম ও চামান—আজ বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট তিনটি সীমান্ত পারাপারের পথ—খারলাচি, আঙ্গুর আড্ডা ও গুলাম খান—বন্ধ রয়েছে।
আজ তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের কোনো অংশেই এখন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহুমকি নেই।’
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা ভারতের সহায়তায় পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কাবুলের তরফে যে বিমান হামলার কথা বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এক নেতাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। তিনি নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, টিটিপি পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করে একটি ইসলামপন্থী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সংগঠনটির সঙ্গে আফগান তালেবানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।