খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এক গুচ্ছ প্রস্তাবনা পেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। রবিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে, তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দলগুলো দিচ্ছে, তা কেবল মৌখিক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না রেখে ইশতেহারে লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহারকে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ‘অঘোষিত চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ইশতেহার হলো জনগণের সাথে দলগুলোর লিখিত প্রতিশ্রুতি। যদি কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে এই চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে নাগরিকদের যেন আদালতে যাওয়ার আইনি সুযোগ থাকে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।” নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘দিন বদলের সনদ’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অঙ্গীকার পূরণ না করায় দলটিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, রাজনীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার পথ বন্ধে দলগুলোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা জরুরি।
সুজন প্রস্তাবিত ১৫ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তু
| ক্রম | প্রস্তাবিত বিষয়সমূহ | বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|---|
| ১ | সংস্কার বাস্তবায়ন | জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকার। |
| ২ | জবাবদিহিতা | রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। |
| ৩ | সাংবিধানিক ভারসাম্য | ক্ষমতা কুক্ষিগত করা রোধে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা। |
| ৪ | দুর্নীতি প্রতিরোধ | দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও কঠোর আইনি লড়াই। |
| ৫ | স্থানীয় সরকার | ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। |
| ৬ | নারী ও তরুণ প্রজন্ম | নারী ক্ষমতায়ন ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। |
সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুজন সম্পাদক বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথে রাজনীতিকদের সম্পদ জাদুর কাঠির মতো বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দলগুলো যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে গণতান্ত্রিক চর্চা না করে, তবে দেশে কখনোই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। কেবল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনই শেষ কথা নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে যেন প্রতিবারই নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম সুজনের পক্ষ থেকে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন। এর মধ্যে মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা অসম্ভব। ভোটারদের উচিত দলগুলোর ইশতেহার যাচাই করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।