খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ফরিদপুর জেলা বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগে আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা এবং সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতারা আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সব ধরনের পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো।
বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকা নিম্নরূপ:
| নাম | পদ | এলাকা | অভিযোগের ধরন |
|---|---|---|---|
| এসএম খোসবুর রহমান খোকন | সহসভাপতি | আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি | স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা |
| রেজাউল করিম রেজা | সহসভাপতি | আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপি | স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা |
| সিরাজুল ইসলাম সোজা | ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক | আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপি | দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা |
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থী, বাংলাদেশ কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। এটি দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরজামাল খসরু জানান, বহিষ্কৃত নেতারা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচির বাইরে থাকছিলেন। নির্বাচনী মাঠে তাদের অবস্থান প্রকাশ্যে আসায় জেলা নেতৃত্ব কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা বলেন, “নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা সর্বোচ্চ শক্তি। এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বার্তা। যারা দলীয় পদ-পদবি বহন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবে, তার পরিণতি কঠোর হতে পারে।”
এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে, যাতে সংগঠন সর্বোচ্চ ঐক্য ও অনড় অবস্থান বজায় রাখতে পারে।