খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
চার ম্যাচের টানা হারের হতাশা, সমালোচনার পাহাড় আর সমর্থকদের প্রশ্নবাণ—সবকিছুর মাঝেই অবশেষে স্বস্তির জয় পেলেন সেল্টিকের নতুন কোচ উইলফ্রিড ন্যান্সি। পার্কহেডে দশজনের অ্যাবারডিনকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেল্টিক প্রমাণ করল, চাপের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি তাদের আছে।
ফরাসি কোচ ন্যান্সির জন্য এই জয় ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হার্টস, রোমা, সেন্ট মিরেন ও ডান্ডি ইউনাইটেডের বিপক্ষে টানা চার হারে তার কোচিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, আদৌ তিনি সেল্টিকের মতো বড় ক্লাব সামলাতে পারবেন কি না। সেই সংশয় দূর করার প্রথম ধাপ হিসেবে এ জয়কেই দেখা হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই সেল্টিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। ৩৯তম মিনিটে সেই চাপেরই ফল আসে। মিডফিল্ডার বেঞ্জামিন নাইগ্রেন দারুণ এক ফিনিশে দলকে এগিয়ে নেন। এই গোলের পর অ্যাবারডিন কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে।
বিরতির ঠিক আগে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি ঘটনা। সেল্টিক ফরোয়ার্ড দাইজেন মায়েদার ওপর বাজে ফাউলের দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন অ্যাবারডিনের ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ডিলান লব্বান। গোলরক্ষক দিমিত্র মিতভের একটি ভুল থেকেই এই বিপদ ডেকে আনে ডনসরা। যদিও পুরো ম্যাচে মিতভ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে বড় ব্যবধানের হার থেকে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে দশজনের দল নিয়েও অ্যাবারডিন হাল ছাড়েনি। ৭৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় কেনান বিলালোভিচ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। সেই মুহূর্তে সেল্টিক শিবিরে আবারও হতাশার ছায়া নেমে আসে। তবে এখানেই দলের মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা হয়।
ন্যান্সির ভাষায়, “আমরা থামিনি। একের পর এক আক্রমণ করেছি।” শেষদিকে সেই আক্রমণের ঢেউই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। কিয়েরান টিয়ার্নির গোল সেল্টিককে আবার এগিয়ে নেয়। এরপর বদলি হিসেবে নামা জেমস ফরেস্ট শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন অ্যাবারডিনের কফিনে।
ম্যাচ শেষে ন্যান্সি বলেন, তিনি ভাগ্যে বিশ্বাসী নন, তবে স্বীকার করেন—এর আগে ভাগ্য তার সহায় ছিল না। কাঠের ফ্রেমে বল লাগা, পেনাল্টি মিস—সব মিলিয়ে আগের ম্যাচগুলোতে হতাশাই সঙ্গী ছিল। এই ম্যাচে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি দলের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে।
এই জয়ে সেল্টিক এখন লিগ নেতৃস্থানীয় হার্টসের থেকে মাত্র ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে, তাও একটি ম্যাচ হাতে রেখে। মৌসুমের বাকি অংশে এই জয় যে সেল্টিকের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।