খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
ভোররাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তেই দানবীয় শব্দে কেঁপে ওঠে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। সড়কের পাশের একটি গ্যারেজে লরির চাকা হাওয়াচালিত যন্ত্র দিয়ে কাজ করার সময় ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সেই বিস্ফোরণে গ্যারেজকর্মী মো. ফাহাদ (২০) ছিটকে গিয়ে সড়কের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
বেদনাদায়ক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ৪ জুলাই ভোর ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের নিমতলা এলাকার ‘পারভেজ মোটর ওয়ার্কশপ’-এ। নিহত ফাহাদ নোয়াখালীর সুধারাম থানার কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার ভিডিও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে এবং মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়।
১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যারেজের পাশে একটি বড় লরি দাঁড়িয়ে। ছয়জন শ্রমিকের মধ্যে ফাহাদ একাই লরির খোলা চাকায় হাওয়া দিচ্ছিলেন যন্ত্রের মাধ্যমে। হাওয়া দেওয়া শেষে সংযোগ-পাইপ খুলতেই ঘটে বিকট বিস্ফোরণ। চাকা বিস্ফোরিত হয়ে ফাহাদ অন্তত পাঁচ ফুট ওপরে ছিটকে যান এবং গিয়ে পড়েন সড়কের নিচে গ্যারেজের সিঁড়ির কাছে। মুহূর্তেই নিথর হয়ে পড়েন তরুণটি।
বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কে অন্য শ্রমিকরা সরে যান। মিনিটখানেক পর এক যুবক ফাহাদকে খুঁজতে গিয়ে নিথর দেহ দেখতে পান। পরে আরও কয়েকজন এগিয়ে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোমিন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমন তরুণ বয়সেই ফাহাদ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান—ঘটনাটি আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে।”
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, “বিস্ফোরণের পর ফাহাদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বিস্ফোরণ সাধারণত অতিরিক্ত হাওয়া বা পুরোনো চাকা ব্যবহারের কারণে ঘটে থাকে। যদিও এখনো এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি, তবে গ্যারেজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিহত ফাহাদের পরিবার ও সহকর্মীরা শোকস্তব্ধ। এমন এক দুর্ঘটনায় ফাহাদের স্বপ্ন ও জীবনের শেষ হয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক।
খবরওয়ালা/এমএজেড